করোনা পিছিয়ে দেবে দারিদ্র্য নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রা

শফিকুর রহমান রয়েল

 

করোনা পরিস্থিতি বাংলাদেশতো বটেই, সারা বিশ্বের অর্থনীতিকে নতুন করে ভাবতে শেখাচ্ছে। ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও যে রীতিমতো বিপ্লব ঘটে যাবে, এমন কথা এখন সর্বত্রই বেশ জোরেশোরে উচ্চারিত হচ্ছিল। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ এবং এডিবিও তাতে সুর মিলিয়েছিল। তথ্য-উপাত্ত সহকারে তারা যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল, সেই রিপোর্টের সারমর্মটা ছিল অবশ্য একটু ভিন্ন—২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ থেকে বিদায় নেবে সত্য; তবে দারিদ্র্য নয়, চরম দারিদ্র্য। তাদের প্রাক্কলন স্পষ্টভাবেই বলে দিচ্ছিল, ২০৩০ সাল নাগাদ চরম দারিদ্র্য দূরীকরণে ঠিকভাবেই অগ্রসর হচ্ছে বাংলাদেশ। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশ গত এক দশকে দারিদ্র্য কমিয়ে আনার প্রশ্নে যতোটা এগিয়ে গিয়েছিল, তারেচেয়ে বেশি পিছিয়ে যায় কি না, প্রশ্ন এখন সর্বত্রই উচ্চারিত হচ্ছে। চরম দরিদ্র লোকের সংখ্যাতো বটেই, দরিদ্র লোকের সংখ্যাও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাটা প্রায় নিশ্চিত। করোনা অতিমারিতে পুরো বিশ্বেই থমকে গেছে অর্থনীতি।

মন্দার প্রভাবে উন্নয়নশীল বিশ্বে দারিদ্র্য বিমোচন এখন নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস বলেছেন, গত তিনবছরে বিশ্বের দারিদ্র্য বিমোচনে যে অগ্রগতি হয়েছিল সেটি এখন হারিয়ে গেছে এই কভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের কারণে। ২০৩০ সালের মধ্যে চরম দারিদ্র্যের হার ৩ শতাংশেরও নিচে নামিয়ে আনাটা বৈশ্বিক লক্ষ্য ছিল। সেখান থেকে এখন পিছিয়ে না এসে উপায় নেই। দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে প্রতি পাঁচ জন চরম দরিদ্র লোকের চারজনেরই বসবাস ভারতে। দারিদ্র্যের হার ১৩.৫ শতাংশতো আছেই ১৩০ কোটি মোট জনসংখ্যাও অতিদরিদ্র লোকের পরিমাণ বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। এসডিজির একটি প্রধান লক্ষ্য ছিল ২০৩০ সাল নাগাদ সকল প্রকার ও আঙ্গিকের দারিদ্র্যকে একেবারেই দূর করে দেওয়া। করোনার প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষতি কতটা হবে সেটি এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে না। অর্থনীতির ক্ষতি কতটা হবে সেটি নির্ধারিত হবে এই অতিমারির প্রভাব কতটা তার ওপর। তাছাড়া অর্থনীতির গতি স্বাভাবিক হতে কয়েকবছর লেগে যেতে পারে বলেও বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন।