অনলাইন আলোচনায় বক্তারা

'চীনের ওপর অধিক নির্ভরশীলতা পরিহার করা উচিত ইউরোপের'

ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের সদস্য এবং বিশেষজ্ঞদের মতে, উহান থেকে জন্ম নেয়া করোনা ভাইরাসে সবচাইতে ক্ষতিগ্রস্ত ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের চীনের বিকল্পের বিষয়ে চিন্তা করা উচিত। ওয়েবনারে হওয়া এক আলোচনায় এ কথা বলা হয়। এ সময় বক্তারা আরো জানান, ইউরোপের জন্য ভারতে বিনিয়োগ পরিবেশ কূটনৈতিক বিবেচনায় অনেক ভালো। ইস্তাম্বুলের ইকনোমিক ডেভলোপমেন্ট ফাউন্ডেশন এই অনলাইন আলোচনার আয়োজন করে।

ফ্রান্সের সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী এবং বর্তমানে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের সদস্য হিসেবে থাকা থিয়েরি ম্যারিয়ানি জানান, দেশগুলো (ইইউ ভুক্ত) চীনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। দেশগুলোর (বিনিয়োগের) বিকল্প মার্কেট খোঁজা উচিত। তিনি বলেন, 'আমার জন্য এই সিল্ক রোড একটি সুযোগ মাত্র। কিন্তু এটি একমাত্র পথ নয়। যদি আমরা শান্তি এবং ভালো উন্নয়ন চাই, তাহলে আমাদের অন্যান্য দেশের সঙ্গেও যুক্ত হতে হবে। চীন বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশ। ভারতও গুরুত্বপূর্ণ। আর এর গুরুত্ব দিনে দিনে বাড়ছে। শান্তির পথে হাঁটার ক্ষেত্রে ভারত বেশ ভালো করছে, এটা আমরা সকলেই জানি। আমাদের উচিত ইরান, পাকিস্তান এবং ভারত বা তুর্কেমিনিস্তান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারতকে সংযুক্ত করে কিছু চিন্তা করা।

তিনি আরো জানান, ভারত বিশ্বের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সংযুক্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, ইউরোপেরও সেই পথে হাঁটা উচিত।

ম্যারিয়ানি আরো বলেন, সিল্ক রোডের বিকল্প ব্যবস্থা তৈরিতে দারুণ সক্রিয় ভূমিকা রাখছে ভারত সরকার। ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে নয়া দিল্লি জাপানকে সঙ্গে নিয়ে এশিয়া-আফ্রিকা উন্নয়ন করিডর ঘোষণা করে যা দুই মহাদেশের বাণিজ্যকে শক্তিশালী করছে। সাব-আফ্রিকা এবং এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারে ভারত। এই প্রজেক্টে গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেতে পারে ইউরোপ।

হাঙ্গেরির সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী ইস্তভেন জ্যান্ত ইভানি জানান, চীনের সঙ্গে সকল ক্ষেত্রে সংযুক্ত থাকার কোন প্রয়োজন ইউরোপের নেই, বরং কিছু কিছু ক্ষেত্রে তারা বিকল্প হিসেবে ভারতের কথাও ভাবতে পারে।

ইকনোমিক ডেভলোপমেন্ট ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি জেনারেল সিগডাম ন্যাস বলেন, 'ভারতের দুর্দান্ত সম্ভাবনা রয়েছে, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক উভয় ক্ষেত্রে। ভারত বেশ গুরুত্বপূর্ণ এবং নির্ভরশীল এবং দেশটি চীনের বিকল্প হতে পারে। আমি কখনই বলছি না চীনের সঙ্গে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করা উচিত, কেননা সেটা অবাস্তব কথা হবে। বরং আমি মনে করি কিছু কিছু ক্ষেত্রে চীনের বিকল্প হিসেবে ভারতের কথা ভাবা উচিত। আর আমাদের এই সুযোগ গ্রহণ করা উচিত।

তিনি বলেন, 'চীন ভিন্ন সরকারি কাঠামো নিয়ে পরিচালিত যা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মূল্যবোধ ও নৈতিক অবস্থানের পরিপন্থী। আমরা কী এটা বলতে পারি, যে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এবং চীনের সরকারি কাঠামোর মধ্যে বেশ কিছু সমন্বয় রয়েছে? অবশ্য তাদের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। এদের মধ্যে একটি গণতন্ত্রের চর্চা করে যা মানবাধিকার সংরক্ষণ করে, অন্যদিকে নিয়ন্ত্রণাধীন ও নিয়মতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা।

টিওবিবি-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ইকনোমিক ডেভলোপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন আহইয়ান জ্যাতিনগলু বিশ্বাস করেন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন চীনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা ত্যাগ করা উচিত। বরং তার নিজেদের কাছাকাছি বৈশিষ্ট্যের রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো উচিত।'

ইত্তেফাক/আরএ