মহেশপুরে বাল্য বিয়ের ধুম, সকল কনেই ৫ম থেকে ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী

একেতে করোনা ভাইরাসের মহামারী তার ওপর চলছে লকডাউন। কিন্তু এসব কিছুকে পাশকাটিয়ে মহেশপুর উপজেলার আনাচে কানাচে বাল্য বিয়ে ধুম পড়েছে। উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় অহরহ ঘটে চলেছে বাল্য বিয়ে। তবে বিয়ে আগে বিয়ের তথ্যগুলো প্রশাসনের কানে দেওয়া হলেও তারা ছিলেন নীরব। 

সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ফতেপুর গ্রামের রবিউল ইসলামের মেয়েকে (৭ম শ্রেণীর ছাত্রী)  গত ১ মে, ফতেপুরে নানার বাড়ি থেকে লেখাপড়া করে শফিকুল ইসলামের মেয়েকে (৮ম শ্রেণির ছাত্রী) ২ জুন, বাবলা মাথাাঙ্গা গ্রামের আব্দুর রহিমের মেয়েকে (১৫) ২ এপ্রিল, কানাইডাঙ্গা গ্রামের এক মেয়েকে (১৩) ১৮ মে , গোপালপুর গ্রামের আমিনুরের মেয়েকে (৮ম শ্রেণির ছাত্রী) ২৮ মার্চ, কানাইডাঙ্গা গ্রামের মোংলার ৭ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ৩০ মে বিয়ে দেওয়া হয়। 

এছাড়া পান্তাপাড়া ইউনিয়নে ৩টি,স্বরূপপুর ইউনিয়নে ৪টি, শ্যাকুড় ইউনিয়নে ৩টি, নেপা ইউনিয়নে ২টি ও কাজীরবেড় ইউনিয়নে ২টি, বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নে ৩টি, যাদবপুর ইউনিয়নে ৩টি, নাটিমা ইউনিয়নে ২টি, মান্দাবাড়িয়া ইউনিয়নে ৩টি, আজমপুর ইউনিয়নে ২টি এবং মহেশপুর পৌরসভ ৫টি বাল্য বিয়ে দেওয়া হয়েছে। হয়ে যাওয়া বিয়েগুলোর কন্যারা সকলেই ৫ম থেকে ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের রেজিস্টার অনুযায়ী তাদের বয়স ১১ থেকে ১৪ বছর হলেও ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রদত্ত জন্ম সনদে তাদের বয়স দেখানো হচ্ছে ১৮ থেকে ২০ বছর।

স্থানীয়রা জানান, কাজীরা সরকারের নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে এসব বাল্য বিয়ে পড়াচ্ছেন। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক বাল্য বিয়ে পড়ানোর অভিযোগ দেওয়া হলেও প্রশাসন এ ব্যপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। 

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, করোনা ভাইরাসের কারণে আমরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে পারিনি।

ইত্তেফাক/এসি