এম এ আলআমিন
করোনার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি চার জন কলেজ শিক্ষার্থীর মধ্যে তিন জনেরই ভবিষ্যত্ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তিন চতুর্থাংশ কলেজ শিক্ষার্থী ইন্টার্নশিপ অথবা কলেজ পরবর্তী কর্মসংস্থান করে ফেলেছিল। কিন্তু করোনা ভাইরাস তাদের সব স্বপ্ন ধূলিসাত্ করে দিয়েছে।
গবেষণা ও সমীক্ষা বিষয়ক মার্কিন প্রতিষ্ঠান কলেজ রিয়েকশনের করা সমীক্ষায় শিক্ষার্থীদের অনিশ্চিত জীবনের ছবি উঠে আসে। ৩৮ শতাংশ শিক্ষার্থী যারা প্লেসমেন্ট দিয়ে কাজের ব্যবস্থা করেছিল তারা সেটি বাতিল করে। ৩৭ শতাংশ তাদের প্লেসমেন্ট বিলম্ব বা অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে দেয়। মহামারি চলাকালে অনেক দেশেই দূরশিক্ষণ চালু হয়। তবে ছাত্রছাত্রীদের কাছে বিষয়টি সমাদর পায়নি। কলেজ রিয়েকশনের জনমত জরিপে দেখা গেছে ৭৭ শতাংশ শিক্ষার্থী এ ব্যবস্থা অপছন্দ করে। অনেকে মহামারিজনিত কারণে মানসিক চাপ বেড়ে যাওয়ার কথা জানায়। ৫১ শতাংশ মানসিক চাপপীড়িত হওয়ার কথা বলেছে।
জরিপটি যখন হয় তখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৬ লাখ এবং মৃতের সংখ্যা ২৬ হাজার ছিল। বিশেষজ্ঞরা তখন লকডাউন তুলে দিয়ে সোস্যাল ডিস্টেন্সিংয়ের ওপর জোর দিচ্ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে অবশ্য শুরু থেকেই অনেকে লকডাউনের ঘোর বিরোধী ছিল। বিশেষ করে রিপাবলিকান ঘরানার লোকজন। লকডাউন না থাকলে সোস্যাল ডিস্টেন্সিং শিক্ষার্থীদের অনুকূলে কোনো ব্যবস্থা ছিল না। সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর কিছু প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মীদের বাসায় বসে কাজ করার নিয়ম চালু করে। স্বাভাবিকভাবে ইন্টার্নশিপে থাকা শিক্ষার্থী বা সদ্য কর্মজীবনে তরুণদের জন্য ব্যবস্থাটি যুতসই নয়। কারণ তাদের সাধারণত অন্যের তত্ত্বাবধানে থেকে কাজ করতে বা শিখতে হয়। শিক্ষার্থীদের এ সমস্যা দেশের সার্বিক জনশক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ এটি শ্রমবাজারে নতুন কর্মশক্তি প্রবেশের প্রতিবন্ধক।