বর্তমান সময়ে বিশ্বব্যাপী সংক্রমিত হওয়া হওয়া এক মহামারীর নাম করোনা ভাইরাস। পৃথিবীর ১৮৮টি দেশে সংক্রমিত হয়েছে এই ভাইরাস। সবকটি দেশেই তাই চলছে লকডাউন পরিস্থিতি। বাংলাদেশেও ধীরে ধীরে বাড়ছে সংক্রমণের পরিধি। প্রায় দুই মাস লকডাউন থাকার পর সম্প্রতি তা শিথিল হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। তবে এই পরিস্থিতিতে ভয়ঙ্করভাবে কমেছে মানুষের উপার্জন। সাধারণ চাকরিজীবী কিংবা ব্যবসায়ীরা কোনোভাবে দিন পার করলেও একরকম অনাহারে কাটছে নিম্নবিত্ত মানুষের দিন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। পাশাপাশি সমাজের স্বল্প আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন অগণিত মানুষ। সাহায্য করছেন নিজের সাধ্যমতো। তাদেরই একজন শফিকুল ইসলাম। কাজ করছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গাজীপুরের পুলিশ পরিদর্শক হিসেবে। থাকেন দক্ষিণখানের ফায়দাবাদে।
করোনা পরিস্থিতি শুরু আগে দায়িত্ব নিয়ে এলাকার রাস্তা সংস্কারের কাজে নামেন শফিকুল ইসলাম। ব্যবস্থা করেন দক্ষিণখানের ছয়টি রাস্তা সংস্কারের। এর পাশাপাশি সভাপতি হিসেবে স্থানীয় কমিউনিটি পুলিশ কমিটির উদ্যোগে নিজ এলাকার নিরাপত্তায় প্রায় ৫০টি সিসি ক্যামেরা ও রাস্তার বাতির ব্যবস্থা করেন।
দেশে করোনা পরিস্থিতি শুরু হলে সাধারণ মানুষদের সহায়তায় এগিয়ে আসেন তিনি। নিজের তিন মাসের বেতন, বাড়িভাড়া এমনকি স্ত্রীর গচ্ছিত টাকা থেকে তিন ধাপে প্রায় ১২'শ মানুষকে জরুরি খাদ্য সহযোগিতা দেন শফিকুল। এছাড়াও স্থানীয় কাউন্সিলরের অনুদান ও নিজের টাকা মিলিয়ে ঈদের আগে প্রায় ৫০০ মানুষের মাঝে হ্যান্ড সেনিটাইজার, চিনি, সেমাই, সাবান ইত্যাদি প্রদান করেন।
করোনাকালে জরুরি খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি স্থানীয় জনসাধারণের চিকিৎসার কথা চিন্তা করে কমিউনিটি পুলিশের উদ্যোগে সাপ্তাহিক ফ্রি মেডিকেল সার্ভিসের ব্যবস্থা করেছেন তিনি। এখানে প্রতি শুক্রবার বিনামূল্যে মা ও শিশু এবং গাইনি চিকিৎসা প্রদান করা হয়। ভবিষ্যতে এর সঙ্গে ডেন্টাল ও অর্থোপেডিক্স সংক্রান্ত রোগের চিকিৎসা দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
ইত্তেফাক/জেডএইচডি