রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারে কঠোরভাবেই পালন হচ্ছে লকডাউন। পুলিশ আর স্বেচ্ছাসেবকরা মিলে বাইরের মানুষকে ভেতরে, আর ভেতরের মানুষকে বাইরে যাওয়া থেকে নিবৃত্ত করছেন। তারপরও নানা উছিলায় বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করেছেন অনেকে। বিশেষ করে সকাল ৯টার দিকে অফিস টাইমে বহু মানুষ একসঙ্গে বের হওয়ার জন্য গেটে ভিড় করেন। মাইকিং করে, নানাভাবে বুঝিয়ে পুলিশ সদস্যরা তাদের ঘরে ফিরতে বাধ্য করেন। যদিও নিজেদের চাকরি নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অনেক বেসরকারি চাকরিজীবী।
গতকাল দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে দেখা গেল ইন্দিরা রোডের (আইবিএ হোস্টেলের পাশে) গলির মুখে দায়িত্ব পালন করছেন একজন পুলিশ সদস্য ও কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক। একটি বাঁশ ফেলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা এসআই সুজন উল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, ‘সকাল থেকে আমরা বহু মানুষকে ফিরিয়ে দিয়েছি। কারণ এখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সাংবাদিক আর স্বাস্থ্যকর্মী ছাড়া কেউ বাইরে যেতে বা ঢুকতে পারবেন না। দুই দিন ধরে মাইকিং করে বলাও হয়েছে। তারপরও নানা উছিলায় তারা বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করছেন।’
একই জায়গায় দায়িত্ব পালন করছিলেন ওয়ার্ড কাউন্সিলরের নিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক রফিকুল ইসলাম। তিনি ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমাদের হটলাইন নম্বর সবার কাছে দেওয়া আছে। আমরা ৪০ জন এখানে কাজ করছি। কারো কিছু প্রয়োজন হলে সেগুলো পৌঁছে দিচ্ছি।’ এ সময় মোটরবাইক নিয়ে ভেতর থেকে এগিয়ে এলেন এক যুবক। পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনিও স্বেচ্ছাসেবক। একজন বাসিন্দার প্রয়োজনীয় ওষুধ আনতে তিনি বাইরে যাচ্ছেন। এ সময় একজন নারীকে প্রাইভেটকার চালিয়ে বাইরে বের হতে দেখা গেল। কেউ তাকে বাধা দিল না। জানতে চাইলে স্বেচ্ছাসেবকরা বললেন, এই নারী কুইক রেসপন্স টিমের সদস্য।
পূর্ব রাজাবাজারের বাসিন্দা সাংবাদিক আমিন আল রশীদ। ঐ গেটের পাশেই ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হঠাত্ দেখি আমার বাসার নিচে বহু মানুষের জটলা। পরে জানলাম তারা সবাই অফিসের উদ্দেশ্যে বের হয়েছেন। পরে মোবাইল কোর্টে জেল জরিমানার ভয় দেখিয়ে তাদের বাসায় ফেরত পাঠানো হয়। আমার মনে হয়েছে, এখানে সমন্বয়ের কিছু সমস্যা আছে। আসলে বেসরকারি চাকরিজীবীদের কি হবে সেটা পরিষ্কার করা হয়নি? অনেকেই পুরো বিষয়টি সঠিকভাবে অবহিত নন।’
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেল, মহল্লার ভেতরে সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ। ফুটপাতেও কোনো দোকান নেই। শুধু কয়েকটি ফার্মেসি খোলা ছিল। অনেকে বারান্দায় দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছিলেন। পূর্ব রাজাবাজারে প্রবেশ ও বের হওয়ার আটটি পথ রয়েছে। এরমধ্যে নাজনীন স্কুলের গলির প্রবেশমুখে একটি বাঁশ ফেলে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। অতি জরুরি প্রয়োজনে এই গেট দিয়ে মানুষ প্রবেশ ও বের হতে পারবে। এই গেটে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছেন। আছেন স্বেচ্ছাসেবীও। একই অবস্থা ইন্দিরা রোডের গলিরও। বাকি ছয়টি গলির মুখে শুধু বাঁশ দিয়ে আটকানো কিংবা যেখানে আগে থেকেই লোহার গেট রয়েছে, সেই গেটে তালা লাগানো বা দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। ঐ পথগুলো দিয়ে চাইলেও কেউ বের হতে পারবেন না।
শের-ই-বাংলা নগর থানার ওসি জানে আলম মুন্সি ইত্তেফাককে বলেন, লকডাউন কার্যকর করতে পূর্ব রাজাবাজারের ভেতরে পুলিশের টহল দল সার্বক্ষণিক রাখা হয়েছে। অলিগলিতে যাতে কেউ আড্ডা দিতে না পারে এবং দোকানপাট খুলতে না পারে সেটি নিশ্চিত করছে এই টহল দল। চারপাশে সড়কেও টহল দল রয়েছে। আটটি প্রবেশপথের মধ্যে দুটিতে পুলিশ সার্বক্ষণিক রয়েছে। কঠোরভাবে লকডাউন পালন হচ্ছে বলেই মনে করেন তিনি।
ইত্তেফাক/বিএএফ