নীলফামারীতে হাবিবা আকতার শারমিন হত্যায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন স্বামী মমিনুর রহমান ও শ্বশুর লাল মামুদ। বৃহস্পতিবার বিকেলে নীলফামারী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হলে আদালতের বিচারক জাহিদ হাসানের কাছে ১৬৪ ধারায় তারা জবানবন্দি দেন। পরে তাদের জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
শুক্রবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান তথ্যগুলো জানান।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, এক বছর আগে মমিনুরের সঙ্গে শারমিনের এক লাখ ২০ হাজার টাকা যৌতুক ধার্য করে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হলেও বাকি থেকে যায় অবশিষ্ট ৪০ হাজার টাকা। এ নিয়ে প্রায়ই তাদের মধ্যে বিবাদ লেগে থাকতো। গত ৯ জুন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শারমিনকে শ্বশুর লাল মামুদ পা চেপে ধরে এবং মমিনুর খাটের রোলার দিয়ে পায়ে আঘাত করে। এক পর্যায়ে গলা চেপে ধরে বড় স্টিলের মগ দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। গুরুতর অবস্থায় তাকে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতাল ও পরে রমেক হাসপাতালে নেওয়ার পথে শারমিনের মৃত্যু হয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে অ্যাম্বুলেন্স থেকে পালিয়ে যায় মমিনুর।
আরও পড়ুন: বশেমুরবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের মেস ভাড়া ৪০ শতাংশ পর্যন্ত মওকুফ
পুলিশ সুপার আরও জানান, ঘটনার দিন শারমিনকে বিষপান জনিত কারণ দেখিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। ঘটনার ১৮ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযান চালিয়ে স্বামী ও শ্বশুরকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় হত্যকান্ডের সময় ব্যবহার করা খাটের রোলার এবং একটি স্টিলের মগ উদ্ধার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার, মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, সৈয়দপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পাল, সহকারী পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম, নীলফামারী থানার অফিসার ইনচার্জ মোমিনুল ইসলাম মোমিন, পরিদর্শক (তদন্ত) মাহমুদ উন নবী উপস্থিত ছিলেন।
ইত্তেফাক/এসি