নেতৃত্বহীনতার কারণেই নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের ভরাডুবি হয়েছে: মোহাম্মদ নাসিম

আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, নেতৃত্বহীনতার কারণেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের ভরাডুবি হয়েছে। তারা অত্যন্ত অগোছালোভাবে নির্বাচনে এসেছিল। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে নতুন বছর উপলক্ষে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, তাদের জোট ছিল নেতৃত্বহীন, মাথা বিহীন। তাদের নেতৃত্বের মধ্যে কোনো সমন্বয় ছিল না। তাই নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের এত বড় পরাজয় হয়েছে।’

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, খেলার মাঠে যদি শক্তিশালী ও দক্ষ সেনাপতি না থাকে তাহলে সে দল জয় লাভ করতে পারে না। ঐক্যফ্রন্টের অবস্থাও ছিল সে রকম। একেক সময়ে একেক জন নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাদের মধ্যে কোনো সমন্বয় ছিল না। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ বিগত বছরের তুলনায় সফলভাবে প্রচারণা চালিয়েছে। কেন্দ্র থেকে তৃণমুল পর্যন্ত নেতাকর্মীরা দিন-রাত প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন। আমরা নির্বাচনকে হালকাভাবে নেইনি। যে কারণে আমাদের বড় বিজয় হয়েছে। ঐক্যফ্রন্টের আন্দোলনের প্রস্তুতির বিষয়ে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ঐক্যফ্রন্টের নেতারা একেক সময়ে একেক কথা বলেছেন। তারা বলেছেন, কেন্দ্র পাহাড়া দিতে। কিন্তু তাদের কোনো কর্মী মাঠে ছিল না। নির্বাচন হয়ে গেছে এখন আর আন্দোলন করে কোনো লাভ নেই। এখন তাদের উচিত মাথা ঠান্ডা রেখে টিম ওয়ার্ক করা। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা। ‘নির্বাচনে ভোট কারচুপি হয়েছে’ মর্মে ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের এমন অভিযোগের জবাবে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে আসা পর্যবেক্ষকরা বলেছেন, নির্বাচন সুষ্ঠ হয়েছে। শুধুমাত্র বিএনপির নেতারাই এই ধরনের অভিযোগ করছে।

এর আগে মোহাম্মদ নাসিম নিজ দপ্তরে পৌঁছালে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সিরাজগঞ্জ-১ আসন থেকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এসময়ে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব জিএম সালেহ উদ্দিন, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী আ খ ম মুহিউল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. কাজী মোস্তফা সারোয়ার, বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ডের চেয়ারম্যান ডাঃ দিলীপ রায় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজধানীর ল্যাব এইড হাসপাতালে চিকিত্সাধীন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেনকে দেখতে যান। এ সময়ে তিনি চিকিত্সার খোঁজ-খবর নেন এবং তার শয্যাপাশে কিছু সময় অবস্থান করেন।
ইত্তেফাক/নূহু