গত ৩ দিন ধরে তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে। বুধবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়ায়। স্থানীয় আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র বুধবার সকাল ৬ টার দিকে ৪ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে। যা দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এখানে ক্রমান্বয়ে তাপমাত্রা কমছে। সোমবার তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মঙ্গলবার এখানে তাপমাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭। গত তিন দিন ধরে শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকায় এ জেলার দরিদ্র পরিবার, ছিন্নমূল অসহায় দিনমজুর মানুষেরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক মো. সানিউজজ্জামান জানান, গত কদিন ধরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেতুলিয়ায় রেকর্ড করা হচ্ছে। বুধবার সকাল ৬ টায় ৪ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
আরো পড়ুন: মুসলমান হয়েও মন্দিরে পূজা দিলেন মন্ত্রী!
হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত হওয়ায় পঞ্চগড় জেলায় প্রতি বছর সবার আগে এখানে শীত আসে। এখানে শীতের স্থায়িত্বও হয় বেশি। কোন কোন সময় ফাল্গুন মাস পর্যন্ত এই শীতের স্থায়িত্ব থাকে। ঘনকুয়াশা আর মৃদু শৈত্যপ্রবাহের ফলে শরীরে শীতের কাঁপন ধরে। স্থানীয়দের আশঙ্কা এবার শীতের তীব্রতা আরও বেশি হবে। বিকেল থেকে তাপমাত্রা কমতে শুরু করে। ভোর থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত তাপমাত্রা একেবারেই কমে যায়। এ সময় তীব্র শৈত্যপ্রবাহ থাকে।
পঞ্চগড় জেলা পরিবেশ পরিষদের সদস্য ময়দানদিঘী কলেজের ভূগোল বিভাগের প্রভাষক শেখ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার পঞ্চগড়ে ব্যতিক্রমী আবহাওয়া বিরাজ করছে। অন্যান্য বছর এ সময় সারাদিন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে। কোন কোন সময় ঘন কুয়াশায় আচ্ছাদিত থাকে। কিন্তু এবার সকাল ৮টার পর সূর্য উঠছে। তাই দিনের বেলা গরম অনুভূত হচ্ছে। বিকেলের পর থেকে ঠাণ্ডা শুরু হচ্ছে। সকাল ৮টা পর্যন্ত একই রকম আবহাওয়া বিরাজ করছে। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে শিশু ও বৃদ্ধরা ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্ট রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার প্রতিক কুমার বণিক জানান, গত দুদিনে সদর হাসপাতালে ২৫ জন শিশু ভর্তি হয়েছে।
পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ গোলাম আজম জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীতার্তদের মাঝে ২২ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে ২ হাজার কম্বল মজুদ রয়েছে। দুই/এক দিনের মধ্যে মজুদ কম্বল বিতরণ করা হবে। আরো শীতবস্ত্রের জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরে আবেদন করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/বিএএফ