'নিউ নরমাল' মোকাবেলায় সবার প্রথমে আমাদের মনোজগতে পরিবর্তন আনতে হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপুমনি। তারুণ্যের প্লাটফর্ম ইয়াং বাংলা আয়োজিত নিয়মিত অনুষ্ঠান 'লেটস টক' এর অনলাইন আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি আরো বলেন, সামনে কী ধরণের দক্ষতার প্রয়োজন হবে, তা জেনে আমাদের সেই অনুসারে তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।
জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. ফারুক হোসেনের সঞ্চালনায় 'নিউ নরমাল'-এর সঙ্গে তরুণ সমাজ' বিষয়ে রবিবার রাত ৯টায় আয়োজিত 'লেটস টক' অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন- শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিষয়ক সচিব মুনশী শাহাবুদ্দিন আহমেদ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমিতির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সভাপতি মির্জা নুরুল গনি শোভন এবং গুরুকুল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর।
এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্বপ্ন তরী ফাউন্ডেশনের মাইমুনা আসমা জাহান এবং ইয়াং বাংলার এসোসিয়েট কোঅর্ডিনেটর হাবিবুর রহমান।
'ডিমান্ড ড্রাইভেন' কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আলোচনায় শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, 'আমাদের ডেমোগ্রাফিক সুবিধা হিসেবে রয়েছে তরুণরা। কিন্তু তাদেরকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াটাই সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জ। আর এই তরুণদের সম্পদকে গড়ে তুলতে হলে আপনাকে বিনিয়োগ করতে হবে। আর এই বিনিয়োগ এমন হতে হবে, যেনো তা থেকে সর্বোচ্চটা পাওয়া যায়। আমাদের সামনে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ আছে। সেই সঙ্গে বর্তমানে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ কোভিড১৯। এই ভাইরাসের কারণে আইএলও বলছে প্রায় ১০০ কোটি মানুষ তাদের কর্মসংস্থান হারাবে। যেটি ভয়াবহ। করোনাকালে ত মানুষ কর্মসংস্থান হারাচ্ছেই। করোনা পরবর্তী সময়েও চাকরি হারাবে। তাই বর্তমান সময়ের পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্যও আমাদের প্রস্তুত হতে হবে। যেনো আমরা পিছিয়ে না যাই।'
তিনি বলেন, "কোভিড১৯ পরবর্তী সময়টা কেমন হবে? অনেকেই বলছেন 'নতুন স্বাভাবিক বা 'নিউ নরমাল'-এর কথা। এই যে আমরা আজকে যেভাবে আলোচনা করছি। আগে হলে আমরা কী জুম মিটিং করতাম? না। হয়ত সামনা সামনি বসে এই মিটিং করতাম। তার বদলে হচ্ছে জুম মিটিং। ফেসবুকের মাধ্যমে সবাই দেখছে, অংশ নিচ্ছে। এই 'নিউ নরমাল'এর সঙ্গে আগে আমাদের খাপ খাইয়ে নেয়া শিখতে হবে। আর সে জন্য প্রথমে মানসিকভাবে খাপ খাওয়াতে হবে।"
ভবিষ্যতে কী ধরণের দক্ষতার প্রয়োজন হবে তা অনুসারে আমাদের পরিকল্পনা সাজানো হবে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "ভবিষ্যৎ প্রয়োজন কী হবে, সেগুলো আগে খুঁজে বের করতে হবে। সারা বিশ্বে কী ধরণের দক্ষতা, কী ধরণের কাজ প্রয়োজন হবে এই 'নিউ নরমাল' অবস্থায়, স্থানীয় পর্যায়েও কী দক্ষতার প্রয়োজন হবে; তার একটি ম্যাপিং করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আর সেই প্রয়োজন অনুসারে দক্ষতা গড়ে তুলতে হবে। যেহেতু আমাদের জনসংখ্যা বেশি, তাই বিশ্ব বাজারের চাহিদা অনুসারে কী ধরণের দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ প্রয়োজন হবে, তা বুঝে আমাদেরকে তৈরি হতে হবে।"
এ সময় তিনি বলেন, 'অনেকে এমন আছে, যারা হয়ত কাজ করতে করতে শিখেছেন। তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কোন স্বীকৃতি নেই। তাদের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়ার বিষয়েও একটি কার্যক্রম নেয়া হবে। সেই সঙ্গে তাদের আরো দক্ষতার বাড়াতে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের পরও প্রশিক্ষণ নেয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে।'
তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একাডেমি ও ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরির কথা বলছি আমরা। এই প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে কোর্স আউটলাইন তৈরি, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং এই কোর্স নেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ক্লাসরুম প্রস্তুত করতে হবে। সেগুলোর জন্য নতুন 'এসিসমেন্ট ম্যাথড'ও থাকতে হবে।
আলোচনায় তিনি আরো বলেন, কারিগরি শিক্ষাকে মূলধারার শিক্ষা হিসেবে প্রচলিত করার আমাদের যেই চেষ্টা, তা তখনই সফল হবে যখন সবার মনোজগতে এ বিষয়ক চিন্তা চেতনায় পরিবর্তন আসবে।
তরুণরা যাতে দেশের নীতি নির্ধারকদের সাথে খোলামেলা আলোচনা করতে এবং নিজেদের ভাবনা ও সমস্যাগুলোর কথা নীতি নির্ধারকদের কাছে পৌঁছাতে পারেন সেজন্য সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) প্রতিষ্ঠান ইয়াং বাংলা নিয়মিত আয়োজন করে আসছে ‘লেটস টক’। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বেশ কয়েকবার এই অনুষ্ঠানে এসেছিলেন। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে আয়োজিত 'লেটস টক' অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তরুণদের সঙ্গে দেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে তরুণরাও সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে জানানোর সুযোগ পান দেশ নিয়ে তাদের চিন্তা-চেতনার কথা। বাংলাদেশে ইতিহাসে তরুণদের সঙ্গে দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের আলোচনা এটাই প্রথম।
ইত্তেফাক/আরএ