জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী হলে চুরির ঘটনায় বিচার দাবি

করোনা ভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রীতিলতা হলের ১৭টি কক্ষের তালা খুলে চুরির ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচারের দাবি জানিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট। সোমবার (১৫ জুন) সংগঠনটির সভাপতি দিপংকর চক্রবর্তী দীপ ও সাধারণ সম্পাদক সোহানূর রশীদ মুন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে তারা বলেন, ‘চুরির ঘটনায় হলের দায়িত্বরত কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ‘দায়িত্বহীনতার’ অভিযোগ আমলে নিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে। পরবর্তীতে এমন অনভিপ্রেত ঘটনা যেন আর না ঘটে সে বিষয়ে সর্বদা সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। ইতোপূর্বে আরো দুইটি হলে চুরির ঘটনা ঘটলেও সেগুলোর সুষ্ঠু সমাধান হয়নি। তাই সি.সি টিভি ফুটেজের আলোকে পূর্বের দু’টি ঘটনা ও বর্তমানের ঘটনাসহ মোট তিনটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে।’

এর আগে, গত রবিবার সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক শোভন রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আবু সাইদ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের হলে থাকা জিনিসপত্র রক্ষায় বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন গাফলতি করেছে, তাই চুরি হওয়া জিনিসপত্রের ক্ষতিপূরণ প্রশাসনকেই দিতে হবে।’

প্রসঙ্গত, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রীতিলতা হলের ‘এ’ ব্লকের ২০১, ২০৩, ২১১, ২১৬, ২১৭, ৩০১ ও ৩০৫ এবং ‘বি’ ব্লকের ১১৩, ২০২, ২১২, ২১৩, ২২২, ৩০৯, ৪০৩, ৪১২ ও ৪২১ নম্বর কক্ষসহ একটি স্টোররুমের দরজার তালা খুলে চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার সকালে বিষয়টি হল প্রশাসনের নজরে আসে। তবে বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করে হল কর্তৃপক্ষ। পরে শনিবার সংশ্লিষ্ট রুমের ছাত্রীদের বিষয়টি জানানো হয়। কিন্তু ছাত্রীরা হলের বাইরে থাকায় ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকতেও কিভাবে এ ঘটনা ঘটেছে সেই ব্যাপারে হল প্রশাসন এবং আবাসিক ছাত্রীদের কেউই কিছু জানেন না বলে জানিয়েছে।

এ বিষয়ে প্রীতিলতা হলের প্রাধ্যক্ষ সহযোগী অধ্যাপক আয়শা সিদ্দিকা ইত্তেফাককে বলেন, ‘এ ঘটনার তদন্তের জন্য হলের আবাসিক শিক্ষক শাশ্বতী মজুমদারকে প্রধান করে চার সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ.স.ম ফিরোজ-উল-হাসান ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা প্রতিনিয়ত হল প্রশাসনের সাথে কথা বলছি। হল প্রশাসন সংশ্লিষ্ট হলের ছাত্রীদের সাথে যোগাযোগ করেছে। তারা ছাত্রীদের কথা মতো সকল জিনিসপত্র খুঁজে দেখেছে। তবে অধিকাংশ ছাত্রীর কথা অনুযায়ী সব জিনিসপত্র ঠিক আছে। তারপরেও যাদের জিনিস চুরি হয়েছে, তারা ক্ষতিপূরণ দাবি করলে হল প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নিবে সে অনুযায়ী কাজ করা হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘হল প্রশাসন জানিয়েছে কোন কক্ষের তালা ভাঙ্গা হয়নি। কক্ষগুলোর তালা চাবি দিয়ে খোলা হয়েছে। কয়েকটি কক্ষের তালায় চাবিও ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। তাই আমরা এ ঘটনার প্রকৃত সত্য উৎঘাটনের চেষ্টা করছি।’ 

ইত্তেফাক/এসআই