দক্ষিণখানে যুবকের মস্তক পাওয়া গেল ড্রেনে

সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে খুনি শনাক্ত

রাজধানীর বিমানবন্দর থানা ও দক্ষিণখান থানা এলাকায় মস্তকবিহীন লাশের দুটি অংশ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের মুল হোতাকে সিসিটিভি ফুটেজ থেকে শনাক্ত করেছে গোয়েন্দারা। এই ঘটনায় মুল পরিকল্পনাকারী গোয়েন্দা পুলিশের নজর দারিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা সূত্র। যে কোনও সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানিয়েছে ওই সূত্র। 

এদিকে বুধবার (১৭জুন) দক্ষিণখানের গাওয়াইর ভূঁইয়া বাড়ি এলাকার একটি কবরস্থানের পাশে ড্রেন থেকে নিহত হেলাল উদ্দিনের মস্তকটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গাওয়াইর এলাকায় কয়েকটি সিসি টিভির ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে সন্দেহভাজন খুনি লাশের টুকরাগুলো একটি সাদা রঙের বস্তায় ভরে একটি ব্যাটারি চালিত রিকশায় করে নিয়ে যায়। এ দৃশ্য সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ থেকে গোয়েন্দারা শনাক্ত করেছে। ঠাণ্ডা মাথায় পরিকল্পিতভাবে লাশ তিন টুকরা করা হয়। লাশের টুকরা বস্তায় ভরে বাড়ি থেকে বের হয়। রাস্তায় একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা ভাড়া করেন। বস্তাটি রিকশায় তুলে সন্দেহভাজন খুনিও উঠে পড়েন। রিকশাটি একটি গলির সামনে দাঁড় করানো হয়। পরে এদিক সেদিক তাকিয়ে রিকশা চালককে ভাড়া পরিশোধ করে বস্তাটি কাঁধে করে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। কিছুক্ষণ পর ওই গলি থেকে বেরিয়ে যায় সন্দেহভাজন খুনি। 

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে নিহত হেলাল উদ্দিন যে রুমটিতে ছিলেন সেই রুমমেটের সঙ্গে পুরনো কোনও দ্বন্দ্ব ছিল। এই হত্যার সঙ্গে এক বা একাধিক লোক জড়িত আছে বলে ধারনা করছেন গোয়েন্দারা। 

অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য হত্যাকারী কয়েক দফা বিভিন্নস্থান থেকে বিকাশের মাধ্যমে টাকা তুলেছেন। যে ব্যক্তি টাকা পাঠাতেন সেই ব্যক্তি নিহত হেলাল উদ্দিনের রুমমেট। ওই সূত্র জানায়, হত্যার মুল রহস্য উদ্ধার করা হয়েছে। যে কোনও সময় খুনিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে। 

আরো পড়ুন: আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর পক্ষ থেকে কাউখালীতে সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ

পুলিশ জানায়, বিমানবন্দর ও দক্ষিণখান থানা এলাকায় মস্তকবিহীন লাশের ক্ষত-বিক্ষত দুটি অংশ উদ্ধারের ঘটনায় দক্ষিণ খান থানায় গত মঙ্গলবার অজ্ঞাতদের আসামি করে থানায় মামলা করেন নিহত হেলাল উদ্দিনের বড় ভাই হুজায়ফা হোসেন। 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দক্ষিণখান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সারোয়ার হোসেন বলেন, ‘লাশের তিন টুকরা উদ্ধার হয়েছে। সম্ভাব্য খুনিও শনাক্ত করা গেছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

উল্লেখ্য, গত সোমবার দক্ষিণখান থানা এলাকার মুক্তিযোদ্ধা সড়কের বটতলা এলাকা থেকে লাশের নাভি থেকে নিচের অংশ এবং নাভি থেকে গলা পর্যন্ত অংশ বিমানবন্দর থানা এলাকার হাজী ক্যাম্প সংলগ্ন ঝোপের মধ্যে থেকে পুলিশ উদ্ধার করে। বুধবার গাওয়াইর ভূঁইয়া বাড়ি এলাকার একটি কবরস্থানের পাশে ড্রেন থেকে খণ্ডিত মস্তক উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত হেলাল উদ্দিন দক্ষিণখান এলাকায় বিকাশ ও ফ্লেক্সিলোডের ব্যবসা করতেন। 

ইত্তেফাক/এএএম