আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলগুলো নৌকা বা নিজ দলীয় প্রতীক নিয়েও নির্বাচন করতে পারবে। শরিক দলগুলোর যেসব নেতা নিজ দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে চাইবেন তাদের মোস্ট ওয়েলকাম জানাবে আওয়ামী লীগ। তবে ১৪ দলীয় জোটের শরিকদের বাইরের কোনো দল-জোট বা নেতাদের নৌকা প্রতীক না দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে আওয়ামী লীগের। সংশ্লিষ্ট সূত্র ইত্তেফাককে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এদিকে যে দলের প্রতীক ব্যবহার করা হবে, সেই দলকে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
সূত্র জানায়, ১৫টি রাজনৈতিক দল জোটগতভাবে নির্বাচন করবে বলে নির্বাচন কমিশনকে লিখিতভাবে অবহিত করেছে আওয়ামী লীগ। এ ১৫টি দল ‘১৪ দলীয় জোটের’ শরিক। এ ছাড়া ১৪ দলীয় জোট শরিকদের কেউ কেউও নিজস্ব উদ্যোগে ইসিকে জোটগতভাবে নির্বাচনের বিষয়টি অবহিত করেছে। ১৪ দলীয় জোটের কোনো শরিক যদি ইসিতে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করেন, তিনি নিজ দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, তাহলে তাকে নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচনে বাধা থাকবে না।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম গতকাল ইত্তেফাককে জানান, ১৪ দলীয় জোটের শরিকদের কেউ নিজ দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে আগ্রহী হলে আওয়ামী লীগের কোনো আপত্তি থাকবে না। আওয়ামী লীগ চিঠিতে ১৪ দলীয় শরিক দলগুলোর নাম উল্লেখ করে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করেছে। তবে প্রতীক ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের কোনো শর্ত আছে কিনা দেখতে হবে।
এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, যেসব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল জোটগতভাবে নির্বাচন করার তথ্য নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছে, তারা একে অপরের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে পারবে। তবে যে দলের প্রতীক ব্যবহার করবে, সেই দলকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানিয়ে দিতে হবে। নইলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যে দলের প্রার্থী সেই দলের প্রতীক ব্যবহার করার বাধ্যবাধকতা চলে আসবে। জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমে ৩০০ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী চূড়ান্ত হবে। পরে জোটের আসন ভাগাভাগি হবে। ১৪ দলীয় জোটের আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত হওয়ার পর প্রতীকও চূড়ান্ত হবে। এক্ষেত্রে শরিক দলগুলোর মতামত গ্রহণ করা হবে। কেউ যদি নিজ দলীয় প্রতীকে প্রার্থী হতে চান তাহলে ওই আসনে নৌকার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা হবে। এদিকে মহাজোটের আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত হলেও জাপার কেউ নৌকা প্রতীক পাবেন না। যেসব আসনে সমঝোতা হবে, সেখানে নৌকার প্রার্থী থাকবে না।
গত রবিবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দলের সংসদীয় বোর্ডের সভা শেষে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ১৪ দলীয় জোটগত ভাবে নির্বাচনে যাবে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিও (জাপা) থাকবে মহাজোট হিসেবে। নৌকা প্রতীকে ১৪ দল লড়বে, জাপা লাঙ্গলে। নৌকা প্রতীক ১৪ দলের মধ্যে সীমিত থাকবে। এ ছাড়া যুক্তফ্রন্টসহ অন্যরা আসলে এবং সমঝোতা হলেও তারা নিজ দলের প্রতীকে লড়বেন। ওবায়দুল কাদের এ বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর ৬ জন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইত্তেফাককে জানান, ১৪ দলীয় জোট দীর্ঘদিন ধরে ঐক্যবদ্ধ আছে। দুই একটি বাদে ১৪ দলীয় জোটের বেশির ভাগ শরিক দল নৌকা প্রতীক চায়। এ কারণে তাদের নৌকা প্রতীক দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে কেউ যদি নৌকার বদলে নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন করতে চায় তাহলে আমরা স্বাগত জানাব। এক্ষেত্রে সমঝোতা হলে ওই আসনে নৌকার কোনো প্রার্থী থাকবে না।
১৪ দল একটি আদর্শিক জোট। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলার পর ১৪ দল গঠনের উদ্যোগ শুরু হয়। নানামুখী চেষ্টার ফলে পরের বছর ২৩ দফা ঘোষণা সামনে রেখে আদর্শিক এ জোট গঠন হয়।
ইত্তেফাক/আরকেজি