কবিতার জন্যে কবির অভিযাত্রা

রাজহাঁসের পালকের নরম উষ্ণতার নিচে যে মা পাতে সংসার,

তাকেও দিতে হয় ঢের নিবিষ্ট নিবিড় সময় সন্তান আকাঙ্ক্ষার।

কচি নরম তৃণ হতে পোয়াতি গোছা ধান, সবুজ শিষের ভিতর তরল দুধ

সোনা ছড়ানো শস্যদানায় গোলা ভরতে কৃষকেরও পেরুতে হয় কষ্টকাল।

 

শিস দিতে দিতে যে প্রেমিক কাঙ্ক্ষিত রমণীর খোঁপায় গোঁজে ফুল,

তাকেও তো পেরিয়ে আসতে হয় অনেক বসন্তের আকাঙ্ক্ষা সম্ভার।

কদম ফুল হাতে কলির কেষ্ট বেশে যুবক প্রহর গোনে বৃষ্টিঝরা বর্ষার,

বরুণার জন্যে কাঙ্ক্ষিত ১০৮টি নীলপদ্ম সংগ্রহে আজ লাগে আট বছর।

 

জোয়ার-ভাটারও তো লগ্ন আছে, অপেক্ষার পালা-চক্র আছে তার

চরাচর ভাসানো পূর্ণিমার আছে পনের কৃষ্ণ ও চৌদ্দ শুক্ল পক্ষ রাত

সফল মিলনস্পৃহ জোড়কে যেমন ধীর অপেক্ষায় রাখে শৃঙ্গার-শাসন

সাগর সঙ্গমাকাঙ্ক্ষায় বেগবতী নদীরও তো মোহনায় হয় স্বেচ্ছা সমর্পণ!

 

শরীর পাতন, নয় মন্ত্রসাধনে কবিরও তো আছে দীর্ঘপথ পরিভ্রমণ

কাব্যলক্ষ্মীর কৃপাকল্পে আছে যজ্ঞ, আছে নিদ্রাহীন সহস্র নিশি যাপন।