রংপুরে করোনাকালীন সময়ে জেলার সকল ছাত্রাবাস-ছাত্রীনিবাসে ৪০ শতাংশ ভাড়া কম নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মেস মালিকরা। গত এপ্রিল মাস থেকে করোনা দুর্যোগ থাকা অবস্থা পর্যন্ত এটি কার্যকর থাকবে। বৃহস্পতিবার বিকেলে রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মেস মালিক সমিতি ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের মধ্যে অনুষ্ঠিত যৌথ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে সভায় চলমান লকডাউনে মেস ভাড়া মওকুফ বিষয়ে মেস মালিক ও ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে আলোচনা করেন। পরে সর্বসম্মতিক্রমে গত এপ্রিল মাস থেকে জেলার সকল মেসের (ছাত্রাবাস/ছাত্রীনিবাস) ৪০ শতাংশ ভাড়া না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া বিদ্যুৎ, বুয়া, ইন্টারনেট বিলসহ অন্য ইউটিলিটি বিলগুলো আগের মতই প্রতিটি মেসের নিয়মানুযায়ী মেস সদস্যরা বহন করবেন। এই সিদ্ধান্ত এপ্রিল মাস থেকে যতদিন পর্যন্ত করোনার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে না আসবে, ততদিন পর্যন্ত চলবে।
মেস মালিকদের এমন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বলেন, শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে আমরা জেলা প্রশাসন বৈঠকের আয়োজন করে সুষ্ঠু সমাধানে এসেছি।
আরও পড়ুন: লে. জেনারেল পরিচয়ে প্রতারণা, ফের গ্রেফতার বাগদাদী
বৈঠকে উপস্থিত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ শাখার সভাপতি তুষার কিবরিয়াকে বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থে আমরা অর্ধেক ভাড়া মওকুফের দাবি জানিয়েছিলাম। পরে সর্ব সম্মতিক্রমে ৪০ শতাংশ ভাড়া মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আমরা মেস মালিকসহ প্রশাসনের কাছে কৃতজ্ঞ।
এব্যাপারে আশরতপুর মেস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম জানান, আমরা দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ছাত্র-অভিভাবকরা সহ সবাই সঙ্কটে আছি। আমাদের অনেকের উপার্জন বা আয়ের উৎস মেসভাড়া। কিন্তু সবার কথা চিন্তা করে আজকের সভায় আমরা ৪০ শতাংশ ভাড়া না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
এদিকে গত কয়েকদিন ধরে রংপুরে মেস ভাড়া মওকুফ নিয়ে মেস মালিক ও ছাত্র নেতাদের মধ্যে দফায় দফায় বৈঠক হয়। কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুই পক্ষই বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। এই প্রেক্ষাপটে জেলা প্রশাসন যৌথ বৈঠকের আয়োজন করে।
ইত্তেফাক/এসি