করোনামুক্ত হয়ে সবার সঙ্গে হাসলো দুই শিশু

আনন্দেই কাটতো তাদের সময়। করোনা কি বোঝে না ১৮ মাস বয়সী শিশু মোস্তাকিম। অজানা আতঙ্কে মুখের হাসিও ছিল না তার। খেলার সঙ্গী আপন বড় ভাই আবু মুসা (৭) সেও করোনা আক্রান্ত। 

করোনা আক্রান্ত হওয়ার কারণে দুই ভাইয়ের কাটছিল বন্দি জীবন। বাড়ির বাইরেও বেরুতো পারছিল না তারা। এসময়ে আগের মতো আশপাশের ছোট ছোট শিশুরাও তাদের সঙ্গে খেলতে আসতো না। বাড়ির গুমোট পরিবেশ তাদের অস্থির করে তুলেছিল। আজ মুক্ত পরিবেশে সবার সঙ্গে তাদেরও চোখে মুখে হাসির ঝিলিক। 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুভাষ চন্দ্র সরকার যখন শিশু দুজনের হাতে ফুল দিলেন, তখন বাড়ির পরিবেশটা পাল্টে গেল। সবার চোখে মুখে তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠল। সবার সঙ্গে কিছু না বুঝেই শিশু দুজনও হেসে উঠলো। 

উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের তেজার মোড় নামকস্থানের নানা বাড়িতে বসবাস করা করোনা আক্রান্ত দুই শিশু পরিবারের রুদ্ধশ্বাস প্রতীক্ষা আর আতংকের অবসান হলো। স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দেওয়া উপহার গ্রহণ করে মুক্ত পরিবেশ পেয়ে পরিবারের সকলেই আজ খুশি। 

জানা গেছে, শিশু মোস্তাকিম ও আবু মুসা মা মর্জিনা বেগমের সঙ্গে ঢাকা থেকে ২৬ মে নানা মজিবর রহমানের বাড়ি উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের তেজার মোড়ের যান। সেখান থেকে ২৮ মে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে মাসহ নমুনা দেন। 

৩ জুন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবের রিপোর্টে মা করোনা আক্রান্ত না হলে শিশু পুত্রদের কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়। ওই দিনই উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ নানা মজিবর রহমানের বাড়িসহ আশপাশের বাড়ি লকডাউন করেন এবং শিশু দুজনকে হোম আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেন। 

গত ৭ জুন ২য় ও ১১ জুন ৩য় দফায় নমুনা সংগ্রহ করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবের পাঠালে দুই দফার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে করোনা মুক্ত শিশুদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। 

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় এ পর্যন্ত ৪শত ৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাব থেকে ইতোমধ্যে ৩শত ২৮ জনের ফলাফল এসেছে। 

জেলার চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও  গাজীপুরে সংগ্রহীত নমুনাসহ এ উপজেলায় মোট ১৮ জনের কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৮০ জনের নমুনার ফলাফল পায়নি উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুভাষ চন্দ্র সরকার বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ আক্রান্তদের পরিবারের লোকজনের আন্তরিক সহযোগিতা ও স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার কারণে আক্রান্তরা দ্রুত সুস্থ হয়েছেন। তবে সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহবান জানান তিনি। 

ইত্তেফাক/জেডএইচ