চীনে লক্ষ বছর পর সক্রিয় আগ্নেয়গিরি!

লক্ষাধিক বছর ধরে সুপ্ত থাকা চীনের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় একটি আগ্নেয়গিরি ধীরে ধীরে সক্রিয় হচ্ছে বলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন। আজ থেকে ৫ লাখ বছর আগে সর্বশেষ অগ্নি উত্পাতের ঘটনা ঘটেছিল সেখানে। এখন পর্যন্ত আগ্নেয়গিরিটির দুটি প্রকোষ্ঠে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত সঞ্চিত তরল শিলা বা ম্যাগমা জমার কথা ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা। এই প্রকোষ্ঠগুলো ৪০ শতাংশ পর্যন্ত পূর্ণ হলেই যে কোনো সময় ঘটতে পারে ভয়াবহ আগ্নেয়গিরি। তবে তার জন্য ঠিক কতদিন সময় লাগবে সে সম্পর্কে কোনো ধারণা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা।

বিজ্ঞানীরা চীনের উত্তর পূর্বাঞ্চলের যে আগ্নেয়গিরিটি নিয়ে এ আশঙ্কা করছেন সেটির নাম ওয়েইশান আগ্নেয়গিরি।                 প্রায় ১৯৩ বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে থাকা আগ্নেয়গিরিমালার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ওয়েইশান আগ্নেয়গিরি। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, লক্ষ বছর ধরে সুপ্ত থাকা আগ্নেয়গিরিটির তলদেশে তরল শিলা বা ম্যাগমার অস্তিত্ব মিলেছে। গবেষক দলটি আগ্নেয়গিরিটির একটি থ্রি ডি ছবি তৈরি করেছেন। যেখানে তারা দেখতে পেয়েছেন মাঝের প্রকোষ্ঠ থেকে ওপরের প্রকোষ্ঠে তরল শিলার যোগান দেওয়া হচ্ছে। আর এই দুটি প্রকোষ্ঠের শতকরা ১৫ ভাগ পূর্ণ হয়ে গেছে ম্যাগমায়। ৪০ ভাগ পূরণ হয়ে গেলেই হয়তো ঘটতে পারে অগ্নুত্পাত। তবে সেটি ঘটতে হয়তো আরো কয়েক লক্ষ বছর সময় লেগে যেতে পারে। তরল শিলা যখন ভূঅভ্যন্তরে সঞ্চিত অবস্থায় থাকে তখন তাকে ম্যাগমা বলে। আর যখন উদিগরণের মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠের বাইরে চলে আসে তখন তাকে লাভা বলে।  

জিওসাইন্স ওয়ার্ল্ডে প্রকাশিত চীনের ইউনিভার্সিটি অব সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলোজির এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—ওয়েইশান আগ্নেয়গিরির ম্যাগমা প্রকোষ্ঠের আশেপাশে ভূমিকম্পের সক্রিয়তা, তরল শিলার উপস্থিতি প্রমাণ করে এখনো সুপ্ত থাকলেও তরল শিলার তৈরির কাজ ঠিকই চলছে। এখন পর্যন্ত এই আগ্নেয়গিরিটি সুপ্ত আগ্নেয়গিরি হিসেবে পরিচিত। তবে বিজ্ঞানীরা মনে করেন ৫ লাখ বছর আগে উদিগরণ ঘটা এই আগ্নেয়গিরিটি ধীরে ধীরে আবারও অগ্নুত্পাতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আগেভাগে অগ্নুত্পাতের বিষয়টি টের পেতে এটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানার কাজ করছে বিজ্ঞানীরা। 

যদিও চীনের বেইজিংয়ে অবস্থিত ভূমিকম্প প্রশাসনের গবেষণা বিভাগের পরিচালক জু জিয়াঙডোঙ সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে বলেন, সাধারণত নিম্ন প্রকোষ্ঠ যখন উচ্চ প্রকোষ্ঠকে তরল শিলার জোগান দেয় তখন সেখানে কিছু গতির সঞ্চার হয়। সেখানে মূলত ভূমিকম্প সম্পর্কিত কার্যকলাপ বৃদ্ধি পায়। তবে গত কয়েক দশক ধরে আমরা এ অঞ্চলের ওপর বিশেষ নজর রাখলেও তেমন কোনো কার্যকালাপ দেখতে পাইনি। পুরো অঞ্চলটি খুবই শান্ত অবস্থায় রয়েছে।-ডেইলি মেইল