ফরিদপুর আটক আওয়ামী লীগ নেতা সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও ইমতিয়াজ হাসান রুবেলের চতুর্থ দফায় আরও চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রবিবার দুপুরে ফরিদপুর ১ নং আমলী আদালতের বিচারক মো. ফারুক হোসাইনের আদালত এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় ৩ দিনের রিমান্ড শেষে রবিবার দুপুরে ফরিদপুরের ১ নং আমলী আদালতে বরকত ও রুবেলকে হাজির করে পুলিশ। এসময় গ্রেফতারের সময় তাদের জিম্মা থেকে উদ্ধার বারোশ বস্তা চাল উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের মামলায় পুনরায় ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানায় পুলিশ। আদালত শুনানি শেষে চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ফরিদপুর কোতয়ালী থানার উপ পরিদর্শক বেলাল হোসেন জানান, গত ১৮ তারিখে মাদক মামলায় তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত। সেই রিমান্ড শেষে রবিবার আদালতে হাজির করা হয় বরকত ও রুবেলকে। এসময় ওই চাল উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানায় পুলিশ। বিজ্ঞ আদালত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আজ থেকেই চারদিনের রিমান্ড শুরু হবে বলেও জানান তিনি।
জানা যায়, গত ৭ জুন পুলিশের হাতে আটকের পরে বরকত ও রুবেলের গাড়ির গ্যারেজ, গোডাউন থেকে বারোশ বস্তা চাল জব্দ করে পুলিশ। এই ঘটনায় কোতয়ালী থানার উপ পরিদর্শক জাকির হোসেন বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করছে উপ পরিদর্শক কবিরুল হক।
আরও পড়ুন: রৌমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের তীর সংরক্ষণ কাজে অনিয়ম, জিও ব্যাগে বালুর বদলে মাটি
এর আগে প্রথম দফায় অস্ত্র মামলায় বরকত, রুবেলসহ চারজনকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। দ্বিতীয় দফায় সুবল সাহার বাড়িতে হামলার মামলায় বরকত ও রুবেলসহ তিনজনকে আরও ৫ দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তৃতীয় দফায় মাদক দ্রব্য আইনে দায়েরকৃত মামলায় তিনদিনের রিমান্ড শেষে রবিবার আদালতে হাজির করে চাল উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের মামলায় চতুর্থ দফায় রিমান্ড আবেদন জানালো পুলিশ।
প্রসঙ্গত, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহার বাড়িতে হামলায় ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় গত ৭ জুন শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ছোট ভাই ইমতিয়াজ হোসেন রুবেলসহ ৯ জনকে আটক করে পুলিশ। পরে রুবেল ও বরকতের দেহ ও বাড়ি তল্লাশি করে ৭টি আগ্নেয়াস্ত্র, বিদেশি মদ, ইয়াবা, ডলার, ভারতীয় রুপি ও নগদ ২৯ লাখ টাকা এবং বারোশ বস্তায় ৬০ হাজার কেজি চাল জব্দ করা হয়। সেসব ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়।
আটকের পর শহর আওয়ামী লীগ জরুরি সভা করে সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে বরকতকে অব্যাহতি দিয়ে বহিষ্কারের সুপারিশ করে জেলা আওয়ামী লীগের মাধ্যমে কেন্দ্রে চিঠি পাঠায়। জেলা বাস মালিক গ্রুপও বরকতকে সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দেয়। অপরদিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাব জরুরি সাধারণ সভার মাধ্যমে ফৌজদারী অপরাধে জড়ানোয় ক্লাবে ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে বিধায় ইমতিয়াজ হাসান রুবেলকে সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি এবং প্রেসক্লাব থেকে বহিষ্কার করে।
ইত্তেফাক/এসি