তৈরিই থাকছেন রাহি

এই বছরটা হতে পারতো আবু জায়েদ রাহির বছর। বাংলাদেশ এর টেস্ট বিশেষজ্ঞ বোলার তিনি। দল টেস্ট কম খেলে বলে খুব বেশি সুযোগ হয় না তার। কিন্তু এই ২০২০ সালে বাংলাদেশের কমপক্ষে ১১টি টেস্ট খেলার কথা ছিল। চলতি বছরে টেস্টগুলো খেলে নিজেকে প্রমাণ করে ফেলার সুযোগ ছিল এই ফাস্ট বোলারের সামনে। কিন্তু ভয়ানক এক করোনা ভাইরাস বছরের প্রায় সব ক্রিকেটই খেয়ে ফেলল। এ নিয়ে অবশ্য আফসোস করেন না রাহি। তিনি বরং বললেন, নিজেকে যতটা সম্ভব তৈরি রাখছেন।

এ পর্যন্ত বাংলাদেশের হয়ে নয়টি টেস্ট খেলে ২৪টি উইকেট নিয়েছেন। ইনিংসে ৪ উইকেট পেয়েছেন দুই বার। এর মধ্যে ইন্দোরে ভারতের বিপক্ষে টেস্টে রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, চেতেশ্বর পুঁজারা ও আজিঙ্কা রাহানেকে আউট করে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন। সেই রাহিম সামনে এবার আরো এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল।

আপাতত টেস্টগুলো না হওয়ায় সুযোগটা খানিকটা নষ্ট হয়েছে। কিন্তু এ নিয়ে আফসোস করতে চান না রাহি। তিনি বলছিলেন, ‘আসলে এটা তো আমাদের হাতে নেই। সারা বিশ্বই এই করোনা ভাইরাসের সমস্যায় ভুগছে। তাই এ নিয়ে আমি আফসোস করে কী করব? আমি মানুষটা এমন যে, সবকিছু সহজে মেনে নিতে পারি। যে কোনো অবস্থায় মানিয়ে নিতে পারি। সেটাই করছি।’

মানিয়ে নেওয়া বলতে, এখন বাড়িতে বসে ফিটনেস নিয়ে কাজ করছেন।

করোনা সংক্রমণের শুরুর দিকেই সিলেটের বাড়িতে চলে গেছেন। সেখানে বসে রোজই ফিটনেস নিয়ে কিছু কাজ করছেন। বলছিলেন, ‘বাসায় জিমের কিছু জিনিস কিনে নিয়েছি। ট্রেডমিল কিনেছি। এ ছাড়া ভোরবেলায় বাসার সামনে দৌড়াই। আর শ্যাডো বোলিং করি। আপাতত এ ছাড়া তো কিছু করার নেই।’

সব ক্রিকেটারেরই ফিটনেস ধরে রাখার উদ্দেশ্য ক্রিকেট শুরু হলে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারা। রাহি অবশ্য একটু ভিন্নভাবে ভাবেন। তিনি বলছিলেন, ক্রিকেটকে মাথায় রেখে কাজ করছেন না। বরং নিজেকে ঠিক রাখতেই এসব করছেন তিনি। একটু ব্যাখ্যা করেই বললেন, ‘ক্রিকেট মাথায় রেখে ফিটনেস নিয়ে কাজ করছি না। তাতে চাপ মনে হতে পারে। আমি নিজেকে ঠিক রাখার জন্যই ফিটনেস নিয়ে কাজ করছি। এতে ব্যাপারটা উপভোগ করছি।’

ইত্তেফাক/এসআই