মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেন যে, তারা যেন ইবাদত করে এই গৃহের পালনকর্তার। (সুরায়ে কোরাইশ-৩) পবিত্র কাবাশরিফের সোনালি বর্ণের চাবিটি মক্কার বনি শায়বা গোত্রের হাতে থাকে। রাসুল করিম (স) ঐ কাবাঘরের চাবিটি শায়বা গোত্রের হাতে অর্পণ করেছিলেন, যা কিয়ামতের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত ঐ গোত্রের হাতে থাকবে।
* কাবাগৃহের একটিমাত্র দরজা, কোনো জানালা নেই। পবিত্র কাবাগৃহের মেঝে এবং ওয়াল মার্বেল পাথর দ্বারা খচিত। কাবাঘরের ভেতরে কোনো বিদ্যুত্ নেই। কাবার গ্লাসের ছাদের ওপর দিয়েই সরাসরি বায়তুল মামুর এবং চন্দ্র-সূর্যের আলো দ্বারা আলোকিত।
কাবাঘরের ভেতরটা চমত্কার। সুবহানাল্লাহ্! ১২৭ সে. মি. দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ১০৪ সে. মি.। প্রস্থের ছাদে একটি ভেন্টিলেটর আছে যা দিয়ে বায়তুল মামুর এবং চন্দ্র-সূর্যের আলো প্রবেশ করে। এটি একটি কাচ দিয়ে ঢাকা থাকে। কাবাঘরের ভেতর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার সময় এই কাচটি খোলা হয়। কাবা শরিফের ভেতরের দেওয়ালসমূহ গ্রিন ভেলভেট কাপড়ের গিলাফ দিয়ে মোড়ানো। গিলাফসমূহ প্রতি তিন বছর পর পর বদলানো হয়। কাবাগৃহের ছাদটি কাঠের তিনটি পিলারের ওপর দণ্ডায়মান। প্রতিটি খুঁটির ব্যাসার্ধ ৪৪ সে. মি.। কাবা শরিফের কালো কাপড়টির আবরণ কিছওয়া প্রতি বছর ৯ জিলহজে চেঞ্জ করা হয়। জমজম পানি দিয়ে পবিত্র কাবা শরিফ পরিষ্কার করা হয় এবং কাবার দেওয়ালে খুব দামি আতর লাগানো হয়। পৃথিবীর জমিনে জান্নাতের ঘর হলো কাবা শরিফ এবং পৃথিবীর জমিনে জান্নাতের টুকরো হলো রাসুল (স)-এর রওজা শরিফ! হজরত ইদ্রিছ (আ) নবি জীবিত অবস্থায় জান্নাত দেখতে গিয়ে যেমন আর জান্নাত থেকে বের হননি, আমি আল্লাহর অধম বান্দা পবিত্র কাবাগৃহের ভেতরে প্রবেশের সৌভাগ্য হওয়ার পর মন চেয়েছিল যে, কাবাগৃহ থেকে বের না হতে। কাবাগৃহের দরজাটা দিয়ে আমার মুখটা ঢেকে ফেললাম! হে আল্লাহ ক্ষমা করো আমাকে, আমাদের সকল মুমিন-মুসলমানকে! হে আল্লাহ সমস্ত বিশ্ব মুসলিমকে তাওয়াফে বায়তুল্লাহ এবং রওজাতুন নবি (স) জিয়ারত করার তাওফিক দান করুন। আমাদের সকলকে কবুল করুন, আমিন।
lলেখক :অতিথি অনুবাদক মসজিদুল হারাম, কাবা মক্কা আল মুকাররাম এবং সাবেক ইমাম ও খতিব, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ মসজিদ