আল্লাহ তায়ালা সমগ্র মানব জাতিকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছেন। মানব জাতিকে এক দম্পতি থেকে সৃষ্টির মাধ্যমে তিনি সবার সমমর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করেছেন। আল্লাহ বলেন, হে মানব জাতি! আমি তোমাদের এক নারী ও এক পুরুষ থেকে সৃষ্টি করেছি আর তোমাদের বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পর পরিচিত হতে পার। তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সে-ই অধিক মর্যাদাসম্পন্ন, যে তোমাদের মধ্যে অধিক তাকওয়াসম্পন্ন। (সুরা হুজরাত-১৩) সুতরাং জাত, বর্ণ, ভাষা, দেশ বা অঞ্চল মুসলমানদের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি হতে পারে না। শ্রেষ্ঠত্ব বা মর্যাদার মাপকাঠি হচ্ছে তাকওয়া।
ইসলামের দৃষ্টিতে দুনিয়ার সব মানুষ সমান। জাতি, বর্ণ, দেশ বা অঞ্চলভেদে কারো ওপর কারো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। রাসুল (স) বলেন, আরবদের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই অনারবদের ওপর এবং অনারবদের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই আরবদের ওপর। তেমনিভাবে কৃষ্ণাঙ্গদের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই শ্বেতাঙ্গদের ওপর এবং শ্বেতাঙ্গদের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর। কেননা, সবাই আদম থেকে এবং আদম মাটি থেকে সৃষ্ট। শ্রেষ্ঠত্ব যাচাইয়ের মাপকাঠি হচ্ছে তাকওয়া। (সহিহ বুখারি)
প্রত্যেক মুসলমান পরস্পরের ভাই। তাই বর্ণ, বংশ, ভাষা, অঞ্চল, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে পরস্পরের মধ্যে কোনো ধরনের বিরোধ বা শত্রুতা জিইয়ে রাখা যাবে না। বরং ভ্রাতৃত্ববোধ ও জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার জন্য সব দ্বন্দ্ব-কলহের মীমাংসা করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, নিশ্চয় মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই। কাজেই তোমরা তোমাদের ভাইদের মধ্যে আপস-মীমাংসা করে দাও। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, আশা করা যায় তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হবে। (সুরা হুজরাত-১০)
আর বিচার-ফয়সালা বা বিরোধ মীমাংসার ক্ষেত্রে কোনো দল, মত বা কোনো অঞ্চলের মানুষের পক্ষাবলম্বন করাকে ইসলাম সমর্থন করে না। ইসলামের বিধান হলো জাতি-ধর্ম-বর্ণ-দল-মত-অঞ্চলনির্বিশেষে সবার জন্য সব ক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণ হতে হবে। সব ক্ষেত্রে ইনসাফভিত্তিক ফয়সালা দিতে হবে। আল্লাহ বলেন, ‘আর যখন তোমরা মানুষের মধ্যে কোনো বিচার-ফয়সালা করো, তখন তা ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক ফয়সালা করবে।’ (সুরা আন নিসা :৫৮)
মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করলেও জাতি, বর্ণ, ভাষা, দৈহিক আকৃতি, দেশ বা অঞ্চলের ভিন্নতার কারণে কোনো মানুষকে নিচু চোখে দেখা ঠিক নয়। কেননা, যারা জাতি, বর্ণ, ভাষা ও অঞ্চলগত পার্থক্যের কারণে মানুষকে নিচু চোখে দেখে, সমাজে বা দেশে বর্ণবৈষম্য প্রতিষ্ঠা করতে চায়, কালাতিক্রমে তারাই ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়। পরিশেষে আমাদের উচিত সবার প্রতি ভ্রাতৃত্বসুলভ মনোভাব লালন করা। অঞ্চলভেদে কাউকে হেয় প্রতিপন্ন না করা। আবার নিজ অঞ্চলের কাউকে অন্য অঞ্চলের কারো ওপর প্রাধান্য না দেওয়া। সর্বোপরি সব ক্ষেত্রে সামাজিক বৈষম্য পরিহার করা।
lলেখক শিক্ষার্থী, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা