লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষের পর উত্তপ্ত রয়েছে ভারত-চীন সম্পর্ক। ভারতের দাবি চীনের সেনারাই ভারতে প্রবেশ করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটিয়েছে। ওইদিকে চীন দাবি করেছে ভারতের পক্ষ থেকেই উস্কানি দেয়া হয়েছে। তবে ইতিহাস বলে চীন এর আগেও ভারতের সঙ্গে কোনো কারণ ছাড়াই বিরোধে জড়িয়েছে। ১৯৬২ সালে চীনের সঙ্গে যুদ্ধে হেরে যায় ভারত। এর তিন বছর পর অর্থাৎ ১৯৬৫ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে ভারত যখন পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধে ব্যস্ত তখনই এক অদ্ভুত দাবি করে বসে চীন।
চীন জানায়, ভারতীয় সেনা তাদের ৫৯টি চামরী গাই এবং ৮০০টি ভেড়া চুরি করেছে। এই অদ্ভুত অভিযোগে ১৯৬৭ সালে আবারো ভারতের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে জড়ায় চীন।
তবে ওই ভেড়া এবং চামরী গাই চুরির অভিযোগের পর ১৯৬৫ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের তৎকালীন তরুণ সংসদ সদস্য অটল বিহারী বাজপেয়ী চীনকে শিক্ষা দিতে এক অন্যরকম কাণ্ড ঘটান। তিনি নয়া দিল্লিতে অবস্থিত চীনের দূতাবাসের সামনে ৮০০ ভেড়া নিয়ে হাজির হন। ওই ভেড়াদের গলায় ঝুলানো প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল যে আমাদের খাও কিন্তু পুরো বিশ্বকে নিরাপদ রাখো।
বাজপেয়ীর এমন কর্মকাণ্ডের পর চীন এর প্রতিবাদ জানায়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর কাছে পাঠানো একটি চিঠিতে বাজপেয়ীর এমন প্রতিবাদকে অপমানজনক বলে আখ্যা দেয় চীন। তবে তখন ভারতের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেয়া হয় যে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে তাদের কিছু করার নেই ।
পরে জানা যায় চুরি নয় চীনের মূল অভিযোগ ছিল যে, তিব্বতের চার জন বাসিন্দাকে অপহরণ করেছে ভারতীয় সেনারা। তবে ভারতীয়দের পক্ষ থেকে বলা হয়, ওই চার জন বাসিন্দা কোনো অনুমতি ছাড়াই ভারতে প্রবেশ করেন। তবে তারা যে কোনো সময় ফেরত যেতে পারবেন।
চীনের ক্ষুব্ধ হওয়ার আরেকট কারণ ছিল এই যে, তিব্বতের দুই নারী পালিয়ে ভারতে চলে আসেন । পরে তারা ভারতের পুলিশের কাছে চীন সরকারের অত্যাচারের বিষয়ে খুলে বলেন। চীন চাইতো যে ওই নারীসহ তিব্বতের সকল শরণার্থীদের যাতে ভারত ফিরিয়ে দেয়।
তবে চীন এই সব কিছুকে আড়াল করে চীন ওই ভেড়া এবং চামরী গাই চুরির অপবাদ দিয়ে ভারতের সঙ্গে আবারো সংঘাতে জড়ায়। কিন্তু বাজপেয়ীর ভেড়ার পাল নিয়ে দূতাবাসের সামনে দাঁড়ানোর ঘটনা পুরো বিশ্বের নজর কাড়ে। বাজপেয়ীর দূতাবাসে দাঁড়ানোর দুই বছর পরই সীমান্তে আবার ভারত-চীন সেনাদের সংঘর্ষ হয়।
ইত্তেফাক/এআর