অনন্যা সাহিত্যপুরস্কার ২০১৮-তে ভূষিত হয়েছেন ঔপন্যাসিক, গল্পকার ও প্রাবন্ধিক আকিমুন রহমান। ৫ জানুয়ারি ২০১৯ রাজধানীর এক মিলনায়তনে তাঁর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে। আকিমুন রহমানের জন্ম নারায়ণগঞ্জে, ১৯৬০ সালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে পিএইচডি করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে : বিবি থেকে বেগম, আধুনিক বাংলা উপন্যাসে বাস্তবতার স্বরূপ, সোনার খড়কুটো, পুরুষের পৃথিবীতে এক মেয়ে, রক্তপুঁজে গেঁথে যাওয়া মাছি ইত্যাদি। লেখালেখির পাশাপাশি ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনায় যুক্ত রয়েছেন। সাক্ষাত্কার গ্রহণ করেছেন মোজাফ্ফর হোসেন
আপনার লেখালেখির শুরুটা কবে থেকে?
আকিমুন রহমান : কিশোরবেলা থেকেই। তখন চট্টগ্রাম কলেজে পড়ি। সত্তুরের মাঝামাঝি সময়ে! সেই সময় কিশোরদের জন্য ‘কিশোর বাংলা’ নামে চমত্কার একটা পত্রিকা বেরুতো। সেখানে প্রথম লেখাটা প্রকাশিত হয়। গল্প সেটা।
মননশীল এবং সৃজনশীল—সাহিত্যের দুই শাখাতেই আপনি সমানভাবে সক্রিয়। সমন্বয় করেন কিভাবে?
আ. র. : বিষয়টা এমন নয় যে, জোর করে বা বেশ একটা বুঝ-বন্দোবস্ত করে সমন্বয়টা আনতে হয়! আমার ক্ষেত্রে ওটা স্বতঃস্ফূর্তভাবেই হয়ে এসেছে!
বাংলা উপন্যাসে বাস্তবতার স্বরূপ বিষয়ে পিএইচডি করেন খ্যাতিমান বহুমাত্রিক লেখক ড. হুমায়ুন আজাদের অধীনে। এই বিষয় নির্বাচনের পেছনে বিশেষ কোনো কারণ ছিল কি?
আ. র. : আমার এই মানবজন্মের সেরা প্রাপ্তিগুলোর একটি হচ্ছে এই যে, আমি আমার পিএইচডি তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে পেয়েছিলাম প্রফেসর হুমায়ুন আজাদকে। পিএইচডির বিষয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমার শিক্ষকের বড় ভূমিকা ছিল। কেমন সেটা বলি—বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে পড়াশোনা শুরু করার গোড়া থেকেই আমি বিপুল মুগ্ধ হয়ে পড়েছিলাম বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের সাহিত্যকর্ম, বিশেষত বৈষ্ণব সাহিত্য। ওই মুগ্ধতা নিয়ে অনার্স পেরুনো হলো, মাস্টার্সও পেরুলাম। দেখি যে, বৈষ্ণব সাহিত্যের জন্য অনুরাগ ফিকে হবে কী, বরং ক্রমে ক্রমে যেন আরো ঘন হয়ে উঠছে। আমার এই সামান্য জীবনের সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত পর্যন্ত তখন নিয়ন্ত্রিত হতে থাকে বৈষ্ণব পদাবলী দিয়ে। কাজেই আমি মনস্থির করে ফেলি যে, উচ্চতর গবেষণা করতে হবে এই বৈষ্ণব সাহিত্যেই। স্যারের কাছে গিয়ে অতি কুণ্ঠা ও অতি আকুলতা নিয়ে আমার আগ্রহের কথা জানাই। স্যার কিছুক্ষণ বাক্যহারা চোখে চেয়ে থাকেন আমার দিকে। আমি মনে করি যে, ওটা বুঝি সম্মতি! আমি তখন ভয়ে ভয়ে বলি, ‘তাহলে স্যার, আমি সিনোপসিস লিখে এনে দেখাই আপনাকে?’
‘মধ্যযুগ নিয়ে কাজ করার ভাবনাও আনবে না মাথায়!’ স্যার জানিয়ে দেন। কেন আনব না—সেই কথাটা অবশ্য জানার খুব ইচ্ছা ছিল। কিন্তু তাঁকে সেই প্রশ্ন করার সাহসটা কোনোকালেই আর ম্যানেজ করতে পারলাম কই!
গবেষণার জন্য যেহেতু আমি পুরো মধ্যযুগমনস্ক ছিলাম, সেই আমাকে নিয়ে বোধহয় স্যার একটু নিরীক্ষাই করতে চেয়েছিলেন। স্যারের প্রিয়কাল ছিল—আধুনিক যুগ। তাই তিনি আমার জন্য আধুনিক যুগের খুব গুরুত্বপূর্ণ ওই আন্দোলন, বাস্তবতাবাদী আন্দোলন ও বাংলা উপন্যাসের দুনিয়ায় সেটার প্রভাব নির্ধারণের এই বিষয়টি ঠিক করলেন।
‘বাংলা সাহিত্যে বাস্তবতার দলিল’ শীর্ষক আপনার সম্পাদনায় উল্লেখযোগ্য একটি প্রকাশনা। সাহিত্যে বাস্তবতা প্রসঙ্গে আপনার নিজস্ব অভিমত কী? আপনার গল্প-উপন্যাসে কতটুকু বাস্তবতা কতটুকু নির্মিতি?
আ. র. : বাস্তবতার মতো গভীর, ব্যাপক, অবিশ্বাস্য সুন্দর আর অসহ্যরকম ভয়াবহ আর কিছু আছে কি? সেই বাস্তবতার ভিত্তির ওপরে সাহিত্যকে দাঁড় করানোরই পক্ষপাতী আমি। এখন, বাস্তবতার কোন এলাকা কার বেশি ভালো লাগবে, সেটা তো নির্ভর করে স্রষ্টার মানস গঠনের ওপর। তবে এটা খুব কঠিনভাবেই মানি যে, শিল্পকে শিল্প হয়ে ওঠার জন্য পরিশীলিত হওয়ার ভীষণ প্রয়োজন আছে। কথাসাহিত্য রচনার ক্ষেত্রে আমি আসলে বানিয়ে কিছুই বলতে পারি না। কোনো-না-কোনোভাবে আমার পঞ্চইন্দ্রিয় দিয়ে উপলব্ধি করা হয়নি যে বাস্তবতাকে, তার কথা বলে উঠতে পারি না আমি। কোনোভাবেই যে জীবনের ভেতর দিয়ে যাওয়া হয়নি, তার গল্প কিভাবে বলা যায়; এবং বললে সেটা কতখানি জ্যান্ত করে তোলা সম্ভব হয়—এটা আমার কাছে এখনো একটা কঠিন প্রশ্ন। বাস্তবতার উপস্থাপনার এই প্রবণতাটি যতটা আমার নিজস্ব, ততটাই ফরাসি ঔপন্যাসিক এমিল জোলার প্রভাবসঞ্জাত।
আপনার গল্প-উপন্যাসে নারী চরিত্রগুলো গুরুত্বপূর্ণ। আপনি কি সচেতনভাবে নারী চরিত্রগুলোকে নির্মাণ করেন?
আ. র. : আমার গল্পে বা উপন্যাসে নারী চরিত্রগুলোই আধিপত্য নিয়ে বিরাজ করে। এই ব্যাপারটা যে খুব পরিকল্পিতভাবে, একটা কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্যই করে থাকি, তা নয়। আসলে যে জীবনটাকে এবং যেই বাস্তবতাকে আমি তন্ন তন্ন করে জানি এবং অনেকখানি চিনি, সেটা নারীরই জীবন। তার সংগ্রামকে চিনি, তার অভিলাষকে চিনি, হীনতাকে চিনি, হীনতা থেকে মুক্ত হবার সাধনাটাকে চিনি। তার অন্তরলোককে চিনি, তার বাইরের অবস্থানটাকেও চিনি। সেই কারণে মনুষ্য সম্প্রদায়ের এই গোত্রটির গল্প বলাটাই আমার জন্য সহজ। সেই সাথে ভেতরে ভেতরে আরেকটা গভীর তাগিদও কাজ করে। নারীর জীবনের সত্য বাস্তবতার গল্পটা, যেটা বহু যুগ ধরেই উপেক্ষিত, সেই গল্পটা বলতে চাই।
বিশ্বসাহিত্যের একটা ব্যাপক অংশে নারীকে নির্মাণ করা হয়েছে পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে। এই ‘নির্মাণ’টা কতটা অথেনটিক বা নির্ভরযোগ্য?
আ. র. : কেমন করে নির্ভরযোগ্য হবে এই ‘নির্মাণ’? পুরুষ লেখকেরা নারীকে, তার সমস্তটাসহ, আদৌ তো তুলে ধরেননি! যাঁরা যেই ভাবে এবং যেমন করে নারীকে দেখতে চেয়েছেন, ঠিক সেইরকমের ছাঁচ গড়ে নিয়েছেন। সেই কারণে কারো নারী কেবলই মধু। কারো নারী কেবলই অন্ধকারবাসিনী। কারো নারী কেবলই সেবাদায়িনী। তবে শুধু পুরুষ লেখকদের কথাই বলি কেন, অনেক অনেক নারী লেখকও তো এমন নারী-ফ্যান্টাসি রচনাই করে চলেছেন।
বাংলা উপন্যাসে পুরুষের যৌনানুভূতি যেভাবে প্রকাশ পেয়েছে, নারীর ক্ষেত্রে সেভাবে পায়নি। বরং এক্ষেত্রে পুরুষ লেখকেরা ফ্যান্টাসি মিশিয়ে নারীদের প্রকৃত যৌনতার বোধ থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন, আপনার কী মনে হয়?
আ. র. : হাজার হাজার বছর ধরে নারীর জন্য এই ট্যাবুই তৈরি করা হয়েছে যে, নারীর কোনো কামবাসনার প্রকাশ থাকতে পারে না। নারী লাজুক থাকবে। নত নেত্র থাকবে। চিরমৌন থাকবে। তার পুরুষটির কামবাসনা নিবৃত্তির উপকরণ মাত্র হয়েই বর্তে থাকবে। সে উপভোগ করবে না। সে উপভোগের সামগ্রী হবে। যেই নারী এমনটা করবে, সেই প্রকৃত ‘ভালো’ বা সতী নারী। আর যে নারী নিজের ভোগ বাসনার কথা প্রকাশ করে ফেলবে, তাকে স্বৈরিণী বলে গণ্য করতে হবে। এই বোধ-বিশ্বাসেরই প্রকাশ কিন্তু নানাভাবে আমরা ঘটতে দেখি আমাদের পুরুষ লেখকদের লেখায়। অধিকাংশ নারী লেখকও তাই-ই করছেন।
আপনার একটি বইয়ের নাম ‘নিরন্তর পুরুষভাবনা : নারী রচিত রোমাঞ্চ উপন্যাসে পুরুষ ভাবমূর্তি।’ পুরুষের প্রতিষ্ঠিত ভাবমূর্তির বাইরে সরে এসে পুরুষ চরিত্রকে কতটা গভীরভাবে নির্মাণ করতে পেরেছেন?
আ. র. : ‘নিরন্তর পুরুষভাবনা : নারী রচিত রোমাঞ্চ উপন্যাসে পুরুষ ভাবমূর্তি’ বইয়ে আমি নারীর পুরুষভাবনার ওপর খানিকটা আলো ফেলার চেষ্টা করেছি। ষাটের দশকে আমাদের ভাষা এলাকায় দেখা দেন রোমেনা আফাজ। তিনিই আমাদের ভাষা এলাকার একমাত্র নারী লেখক, যিনি তাঁর রোমাঞ্চ উপন্যাসগুলোতে অভিনব এক নায়ককে গড়ে তোলেন। তার নাম বনহুর। কেন তাঁকে তৈরি করতে হয় এমন এক সমাজ বহিরিস্থিত দস্যু নায়ককে? সেটা কি শুধুই চমক সৃষ্টির জন্য? না, তাঁর সময়ের অন্য রোমাঞ্চ উপন্যাসের পুরুষ লেখকদের অনুকরণ করার ইচ্ছা থেকে এমনটা করেছিলেন রোমেনা আফাজ? নাকি আরো গূঢ় কারণ ছিল? আমি সেটা উদ্ঘাটন করার চেষ্টা চালাই। রোমেনা আফাজের নায়ক সৃজনবাসনার কারণ যেমন অনুসন্ধান করছিলাম, পাশাপাশি দস্যু বনহুরের সাথে আমাদের সাহিত্যের মূলধারার নারী এবং পুরুষ লেখকদের গড়া নায়ক চরিত্রদেরও একটা তুলনামূলক আলোচনার উদ্যোগ নিই।
‘পৌরাণিক পুরুষ’ শিরোনামে গুরুত্বপূর্ণ একটি বই লিখেছেন আপনি। নারীর ঐতিহাসিক অবদমনের পেছনে পুরুষ নির্মিত পুরাণের ভূমিকা কীরূপ?
আ. র. : এই পুরাণগুলোর তো বিপুল ভূমিকা ছিল এবং আছে। কারণ এগুলোর মধ্য দিয়ে আদি পিতারা তাদের জন্য সুবিধাজনক নারীছাঁচ তৈরি করেছিল, এবং সমাজে ওই ছাঁচের মহিমা রটিয়ে চলেছিল। তারা শুধু ওই নারী ছাঁচই তৈরি করেনি, ছাঁচমাফিক সতীলক্ষ্মী নারীও গড়ে তোলে পুরাণগুলোতে।
আপনার সৃজনশীল সাহিত্যচর্চার উল্লেখযোগ্য অংশজুড়ে আছে পুরুষভাবনার বিষয়টি।
আ. র. : আমার কাছে কিন্তু বরাবরই মনে হয়ে এসেছে যে, পাঠ করার জন্য বিষয় হিসেবে পুরুষ একটা অতি চমত্কার সাবজেক্ট। আমি নানাভাবে তাকে পাঠ করে উঠে, কখনো চমকিত হই। কখনো আতঙ্কবোধ করি। কখনো বিমল আনন্দ পাই। কখনো বেদনা ও করুণায় ছলকাই। বেচারা! কী মহা চাপে তাকে থাকতে হচ্ছে, সভ্যতার সেই গোড়া থেকেই। সে তার নিজের জীবনটাকেই তো নিজের মতো করে দাঁড় করাবার অধিকার পায় না। তাকে যাপন করতে হয় তার জন্য বানানো ছাঁচমাফিক। কী আছে সেই ছাঁচে? সে পুরুষ, তাই তার নিজেকে বলশালী বলে চিন্তা করতেই হবে। সক্রিয় দেখাতে হবে। ত্রাতার ভূমিকায় থাকতে হবে। যতই নষ্ট-ভ্রষ্ট হোক সে, কিছুই তার সতীত্ব ক্ষুণ্ন করতে পারবে না—এমন ভুল বিশ্বাস নিয়ে চলে থাকতে হবে। এমন আরো বহু বহু কিছু। অথচ বাস্তবতা বলে ভিন্ন কথা। এই ছাঁচমাফিক চলতে চলতেই কিন্তু সে নিজের আদত রূপটা অলজ্জভাবে প্রকাশের সুবিধাটা পাচ্ছে না। সেটা পেলেই ভালো হতো তার। আমরাও পরিষ্কার চোখে দেখতে পেতাম মনুষ্য সম্প্রদায়ের এই গোত্রটি আদতে কেমন।
আপনার ‘বিবি থেকে বেগম’ গ্রন্থে উঠে এসেছে বিশ শতকের বাঙালি মুসলমান নারীর ক্রমবিবর্তনের ইতিহাস। এই বিবর্তনে নারী কতটা স্বয়ম্ভূ? কতটা মৌলিক?
আ. র. : বিশ শতকের বাঙালি মুসলমান নারীর যে বিবর্তনের পরিচয় আমরা পাই, সেখানে আমাদের নারী পূর্বসূরিগণের কোনো গৌরবের পরিচয় ছড়িয়ে নেই। বরং তাঁদের কেমন করে নতুন রকমের শেকল বা ছাঁচে বন্দি করে ফেলা হলো— তার পরিচয়ই ছড়িয়ে আছে। ‘বিবি থেকে বেগম’ বইয়ে সেই পরিস্থিতিটাকেই ব্যাখ্যা করার চেষ্টা চালানো হয়েছে। মিথ তাঁরা ভাঙবেন কী, তাঁদের জন্যই তো নতুনরকম নারী-মিথ তৈরি করল সমাজ। এবং নতুন রকমের শেকলের জীবনে প্রবেশে বাধ্য করা হলো। বিশ শতকের দ্বিতীয় দশকে বাঙালি মুসলমান রচিত কয়েকটি সাহিত্যমূল্যশূন্য উপন্যাসে তৈরি করা হয় এক অভিনব নারী-ভাবমূর্তি। আসলে তৈরি করা হয় এক অভিনব পত্নীর ছাঁচ—যে পত্নী হবে অতি রূপবতী, কিন্তু অতি পর্দানশীন; অল্প লেখাপড়া জানা এবং একান্ত পতি অনুগতা। এই ছাঁচটি তখনকার অল্প শিক্ষিত বাঙালি মুসলমান সমাজে ছিল একেবারেই অভিনব। অচিরেই ওই উপন্যাসগুলোর ছাঁচে বাস্তব সংসারে অমন নারীগণ বা নব্য বিবিরা তৈরি হতে থাকে। পতির জীবনকে নানাভাবে সুখশান্তিতে ভরে দেওয়ার জন্যই তাদের নারীজন্ম। এর পরে যত দিন যেতে থাকে, বাঙালি মুসলমান পুরুষ যত উচ্চশিক্ষার দিকে যেতে থাকে, তত তারা তাদের শিক্ষা রুচি ও সুবিধামতো নতুন নতুন ছাঁচ প্রস্তুত করতে থাকে। এবং বাস্তব নারীদের সেই ছাঁচমতো গড়ে তোলারও ব্যবস্থা নিতে থাকে। একেবারে আদিতে যার পরিচয় ছিল ‘বিবি’, কালক্রমে সে পায় ‘বেগম’ অভিধা; তারপর সে পায় ‘মিসেস’ অভিধা বা ‘আমার ওয়াইফ’ নামটি।
আপনি কি নিভৃতচারী লেখক? সাহিত্যের অনুষ্ঠানে আপনাকে খুব বেশি দেখা যায় না। এর কারণ কী?
আ. র. : আমি তো একেবারে তুমুল রকমেই বিশ্বাস করি যে, সাহিত্য হচ্ছে একাকী এক বিজন সাধনার ফসল। জীবনকে চিনতে হলে জীবনের ওঠাপড়ার ভেতর দিয়ে যেতে হবে। অভিজ্ঞতা পেতে হবে। কিন্তু লেখার জন্য হয়ে উঠতে হবে চূড়ান্ত নিঃসঙ্গ। আমি তেমনটাই অনুশীলন করি। তবে কেউ ডেকে উঠলে, আমি সাড়া দিই না—এমনটা তো নয়।
সাহিত্যচর্চার এই পর্যায়ে এসে অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার পাচ্ছেন আপনি। গত ২৪ বছর ধরে এই সাহিত্য পুরস্কারটি দেওয়া হচ্ছে। আপনার অনুভূতিটা জানতে চাই।
আ. র. : ভীষণ অস্বস্তি হচ্ছে! ভারি অস্বস্তি! মনে হচ্ছে, এমন আর কী-ই বা লিখে উঠেছি আমার পূর্বসূরিদের তুলনায়। আমি তো মাত্র চেষ্টাটাই করে যাচ্ছি। শুধুই চেষ্টা। এর মধ্যেই এমন ভালোবাসা। এ তো আমার প্রাপ্য ছিল নাকি!