ঘিওরের আকাশে দিনে রাতে বাহারি ঘুড়ি

করোনাকালে ফিরে এসেছে বাংলার সংস্কৃতি থেকে হারিয়ে যেতে চলা ঘুড়ি উৎসব। সারাদেশের মত মানিকগঞ্জের ঘিওরসহ জেলার বিভিন্ন স্থানের মানুষও মেতেছেন ঘুড়ি উৎসবে। বিভিন্ন পাড়া, মহল্লার আকাশে এখন রঙবেরঙের ঘুড়ি। শিশু-তরুণ-যুবক এমনকি মাঝ বয়সীরাও স্বাদ নিচ্ছে ঘুড়ি উড়ানোর। শুধু দিনেই নয়, রাতের আকাশেও দেখা মিলছে ঝলমলে ঘুড়ির। 

সরজমিন, উপজেলায় ঘুড়ি বানানোর ধুম পড়েছে। আকাশে চোখ মেললেই ঘুড়ির লড়াইয়ের দৃশ্য, চলছে কাটাকাটির খেলা। ঘিওর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিন-রাত ছোট-বড় নানা বয়সী ঘুড়ি প্রেমি মেতেছেন এই ঘুড়ি উৎসবে। বর্তমানে চাহিদা বাড়ায় দুইশ থেকে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে এসব ঘুড়ি। প্রতিদিন আকাশে দিন-রাত্রী পর্যন্ত উড়তে দেখা যাচ্ছে- চিল, কয়রা, ঢোল, পতিঙ্গা, পাখি, পরি, বাচ, ফুল, প্রজাপতি, মানুষ ঘুড়ি, সাপাসহ রংবেরঙের ঘুড়ি। 

ঘিওরের বানিয়াজুরী এলাকার ঘুড়িপ্রেমী আব্দুর রাজ্জাক রাজ বলেন, চাকরির চাপ না থাকায় তারা বেশিরভাগই ঘুড়ি কিনছেন। গ্রামে ঘুড়ি তৈরিতে যুবকরা ব্যস্ত সময় পার করছে। তাদের কাছেই এখন মিলছে ঘুড়ি। সাধারণত যেকোনো ডিজাইনের একটি ঘুড়ির দাম একশ থেকে পাঁচশ টাকা পর্যন্ত।

আরও পড়ুন: ফুলবাড়ীতে ধরলার পানি বিপদসীমার ৬৭ সেমি ওপরে, পানিবন্দি দেড় হাজার পরিবার

ঘুড়ি বানানো কারিগর ছৈয়দ আলী জানান, এখন প্রচুর পরিমাণে ঘুড়ি বিক্রি হচ্ছে। কারণ করোনা ভাইরাসে স্কুল বন্ধ থাকায় শিশু-কিশোররা ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে। তাই বিকেলে একটু আনন্দ পেতেই তারা ঘুড়ি উড়াতে মেতে উঠছে। বাশঁ, বেত এবং বিভিন্ন রঙের প্লাস্টিক-কাগজের মোড়কে ঘুড়ি বানানো হয়। আবার কেউ ঘুড়িতে বাতি লাগিয়ে নিয়ে রাতের আকাশে উড়াচ্ছেন। 

তিনি আরও বলেন, ঘুড়ি বিক্রি করে চলতি মাসে আমার ১৫ হাজার টাকা আয় হয়েছে। ঘুড়ির প্রতি যুবক শ্রেণির ছেলেরা বেশি আগ্রহ।

ঘুড়ির সেকাল

ব্রিটিশ আমলে অভিজাত লোকদের বিনোদনের জন্য ঘুড়ি উড়ানোর আয়োজন করা হতো। ১৭৪০-এর দশকে নায়েব-এ-নাজিম নওয়াজেশ মোহাম্মদ খানের আমলে ঢাকাসহ মানিকগঞ্জে ঘুড়ি উড়ানো উৎসব একটা ঐতিহ্যে পরিণত হয়। তখন থেকেই মানিকগঞ্জের খোলা আকাশে অনেক ঘুড়ি উড়তে দেখা যায়।

ইত্তেফাক/এসি