করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু?

শিফারুল শেখ

 

প্রাণঘাতী মহামারি করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা ১ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। প্রাণ গেছে ৫ লাখের বেশি মানুষের। এর মধ্যে বিশ্বের বেশ কিছু সংক্রমণ কমার পর আবার বাড়তে শুরু করেছে। কিছু স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ বলছেন, এরই মধ্যে দ্বিতীয় ঢেউ আমাদের ওপর চেপে বসেছে। আবার কেউ বলছেন, এখনো দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়নি। যেসব দেশ ভাইরাসটিকে এরই মধ্যে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে, তাদের মধ্যেও সংক্রমণ দ্বিতীয় দফায় ফিরে আসা নিয়ে ভীতি রয়েছে। একে বলা হচ্ছে সেকেন্ড ওয়েভ বা দ্বিতীয় ঢেউ। শতবর্ষ আগে স্প্যানিশ ফ্লুও দ্বিতীয় দফায় ফিরে এসেছিল এবং প্রথম দফার চেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

 

g দ্বিতীয় ঢেউ কী

এটাকে সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। সামুদ্রিক ঢেউ যেমন ওঠা-নামা করে তেমনি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণও বাড়ে এবং তারপর আবার কমে। এই বাড়া-কমার প্রত্যেকটা ধাপকে বলা হয় ঢেউ। এর আনু্ষ্ঠানিক সংজ্ঞা নেই। ‘এটা ঠিক বৈজ্ঞানিক কিছু নয়, ওয়েভ বলতে আপনি যা বোঝাবেন সেটা অনেকটাই আবেগনির্ভর’, বলেন যুক্তরাজ্যে ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মাইক টিলডেসলি। কেউ কেউ সংক্রমণ বেড়ে যাওয়াকেই ওয়েভ বলেন। প্রথম ওয়েভেও কিন্তু কয়েকবার এই ওঠা-নামা হতে পারে। প্রথম ঢেউটি তখনই সমাপ্ত হয়েছে বলা যাবে যখন ভাইরাসটিকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা যাবে। এক্ষেত্রে সংক্রমণের হার নাটকীয়ভাবে কমে আসবে। এরপরে সংক্রমণ যখন উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় বৃদ্ধি পাবে তখনই সেটাকে দ্বিতীয় ঢেউ বলা হবে।

 

g এরই মধ্যে দ্বিতীয় ঢেউ শুরু!

যুক্তরাষ্ট্রের ২৯টি রাজ্যে আবার সংক্রমণ বেড়েছে। বিশেষ করে ১৬টি রাজ্যে হু হু করে বাড়ছে। দুই মাস ধরে বেইজিংয়ে কোনো আক্রান্ত পাওয়া যায়নি। চলতি জুনে প্রায় ২০০ মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ঘটেছে। নিউজিল্যান্ড কোভিড-১৯ মুক্ত ঘোষণা করেছিল। কিন্তু চলতি মাসে তিন জন পজিটিভ পাওয়া গেছে। ইউরোপের জার্মানি ও পর্তুগালে সংক্রমণ আবার বেড়েছে। অস্ট্রিয়ার ভিয়েনার কাছের এক নার্সিং হোমেও কয়েকজনের করোনা ভাইরাস ধরা পড়েছে। কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে শুরুর দিকে সংক্রমণ ঠেকাতে পারলেও এখন দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা করছে ইসরাইল। প্রতিদিন ৩০০ জন সেখানে শনাক্ত হচ্ছে। করোনা দ্বিতীয় ঢেউয়ের হানা সামাল দিতে লুক্সেমবুর্গের সরকার দেশটির সব মানুষের করোনা পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে।

 

g বিতর্ক

কেউ কেউ বলছেন, দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। কিন্তু মার্কিন সংক্রামক বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফাউচি বলেন, এখনো দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়নি। বর্তমানে আক্রান্ত বাড়ছে লকডাউন শিথিলের কারণে। দ্বিতীয় ঢেউ এলে বুঝতে হবে কোথাও বড় ধরনের ভুল হয়েছে। মহামারির শুরুর দিকে এক ব্যক্তির মাধ্যমে গড়ে তিন জন আক্রান্ত হয়েছে। এর অর্থ ভাইরাসটি খুব দ্রুত ছড়াচ্ছিল। লন্ডন স্কুল অফ হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের ড. অ্যাডাম কুচারস্কি বলেন, কোনো দেশই সব বিধি-নিষেধ প্রত্যাহার করে আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাবে না। তাত্ত্বিকভাবে সেকেন্ড ওয়েভ প্রথম ধাপের চেয়েও খারাপ হতে পারে। কারণ এখনো বহু মানুষের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যদি আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে, তখন আমরা পুনরায় লকডাউন জারি করতে পারি দ্বিতীয় ঢেউ ঠেকাতে, বলেন ড. টিলডেসলি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ইউরোপে শীতকাল হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। কেউ কেউ বলছেন, শীতকালের দিকে সেকেন্ড ওয়েভের ঘটনা ঘটতেই পারে।

 

g ভাইরাসটি কি ক্রমশ দুর্বল হবে?

সেকেন্ড ওয়েভ প্রথম দফার মতো মারাত্মক হবে না। এর পক্ষে একটি যুক্তি হলো: ভাইরাসটি ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়বে। ফলে এটি আর মানুষকে সহজে কাবু করে ফেলতে পারবে না। এইচআইভির ক্ষেত্রেও সে রকম হয়েছে। তবে এ রকমটাই যে হবে তার কোনো গ্যারান্টি নেই বলে জানান নটিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজিস্ট প্রফেসর জনাথন বল।

—বিবিসি, সিনেট ও ডয়চেভেলে