বাদল দিনের পোশাক

রঙধনু বুকে নিয়ে নীল আকাশ যেমন ধরত্রীতে রঙের বর্ষণ ঘটায় তেমনি আমাদের মানব জীবনেও নীলের ছোঁয়া বয়ে আনে স্নিগ্ধ সুখের পরশ। প্রকৃতির পরম উপহার ছয়টি ঋতুই আসে রঙের ভিন্নতা নিয়ে। আর এর মাঝে বর্ষার কাছেই খুঁজে পাওয়া যায় প্রিয় নীলের সান্নিধ্য। ঝমঝম নির্লিপ্ত বর্ষাঝরা দিনে একফালি নীল বুঝি না হলেই নয়। বৃষ্টি ধোয়া আকাশ চাঁদোয়ার যখন হেসে ওঠে হূদয়গ্রাহী নীলে নিপুণ খুনসুটি, তখন যাপিত জীবনে নেমে আসে স্বস্তির আঁচ। গ্রাম্য কিশোরীর কাছে নীল পাড়ের একখানা শাড়ি হয়তো উপাসনার বস্তু; কিন্তু শহুরে তরুণী এই বর্ষায় ঠিকই বেছে নেন তথাকথিত ক্রিয়েটিভ ফ্যাশন কিংবা নান্দনিক স্টাইলের কোনো বসন। বাদল দিনের এই নীলের খেলা নিয়েই আমাদের এবারের আয়োজন। লিখেছেন নওশীন শর্মিলী

বর্ষার স্নিগ্ধতা নগর জীবনকে যতটা ছুঁয়ে যায়, তার থেকে অনেক বেশী ছুঁয়ে যায় গ্রাম বাংলাকে। সেখানে বর্ষা মানে—খাল বিলে নতুন পানি। সবুজ জলের সন্তরণে ভেসে উঠে নীল আকাশের ছবি। আর শহর জীবনে বর্ষার বর্ষণ হয়তো ব্যস্ত জীবনে কিছুটা ছন্দপতন ঘটায়। কিন্তু ফ্যাশন থেকে শুরু করে সবকিছুতেই ভাসে বর্ষায় স্নাত নীল রঙের ভেলা। নীল শুধু পোশাকে নয়, ভরা বর্ষায় নীল ছুঁয়ে যায় সবকিছু। বর্ষা এলেই নীলের প্রভাব খুঁজে পাওয়া যায় ফ্যাশন হাউজগুলোতে। দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলো বর্ষা এলেই সব নীল পোশাকের ভাঁজ খুলতে শুরু করে। আর সেই সুবাদে বর্ষা জুড়ে ফ্যাশনে নীলের প্রভাবটা লক্ষণীয়। সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ যুগের বাঙালিরা এখন রঙ আর ঋতু সচেতন। আর তাই বর্ষার পোশাক মানে যেন নীল গ্রহণ। মেয়েদের জন্য বর্ষায় বিশাল একফালি নীল আঁচল হয়ে উঠতে পারে ফ্যাশনের সেরা অনুষঙ্গ। সেইসঙ্গে মানানসই টিপ কিংবা খোপায় ফুলেল সাজ মানিয়ে যাবে যে কোনো বর্ষার বিকেলে। শাড়ির বদলে নীল কামিজও মানাবে দারুণ। বর্ষায় সাধারণত সুতির আধিক্যতাই একটু বেশী থাকে। তবে এই সময় সফট সিষ্ক, ধুপিয়ান, মসলিন এসব কাপড়ও ব্যবহার করতে পারেন। যে কাপড়ই গায়ে জড়ান না কেন—মনে রাখবেন, আমাদের দেশে বর্ষা কিন্তু খুব ঠান্ডা পরিবেশ বয়ে আনে না। বরং অনেক সময় আবহাওয়াটা একটু ঘোলাটে গরমের জন্ম দেয়। আর তাই পোশাকে কোনো মোটা কাপড় আপনাকে অস্বস্তিতে ফেলে দিতে পারে। নীল কামিজে একটু স্নিগ্ধ ভাব খুঁজে বের করুন। সাথে গয়নাগাটি খুব ভারি ব্যবহার করবেন না। আর জুতা এমনভাবে নির্বাচন করুন যেন কর্দমাক্ত পথে আপনাকে জুতো জোড়া বগলদাবা করতে না হয়। তরুণ তুর্কিরা এই বর্ষায় জিন্সের সঙ্গে পড়তে পারেন ফতুয়া। আপনার প্রিয় নীল জিন্সটি নিঃসন্দেহে এই বর্ষায় হয়ে উঠবে আপনার প্রিয় পোশাক। বর্ষায় নীল জিন্সের সঙ্গে নীলের কোনো ভিন্ন শেডের ফতুয়া ব্যবহার করুন। সঙ্গে কনর্ভাস কিংবা যে কোনো ক্যাজুয়াল স্নিকার্স মানিয়ে যাবে দারুণ। ছেলেদের জন্য বর্ষার ফ্যাশনের নীল উঠে আসে শার্ট, পাঞ্জাবি কিংবা ফতুয়ায়। বর্ষায় শার্টে শুধুই নীল রাখতে পারেন। কিংবা কোনো ট্রাইবাল টেক্সচারের নীল শার্ট আপনার স্মার্টনেসের পাশাপাশি আপনার রুচিরও বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে। বর্ষায় এমন কিছু ফতুয়া ব্যবহার করুন যেগুলো ভ্যাপসা গরমের হাত থেকে আপনাকে রক্ষা করবে আর সেই সঙ্গে নীলের ছোঁয়া এনে দেবে প্রশান্তি। শার্ট ফতুয়ার বাইরে ছেলেরা বর্ষায় নীল শেডের টি-শার্ট ব্যবহার করতে পারেন। তবে একটু ভিন্ন লুক আনতে ক্যাজুয়াল স্নিকার্সের সঙ্গে সাদা প্যান্ট আর উপরে কোনো নীল শার্ট কিংবা টি-শার্ট পড়ুন; দেখবেন এই বর্ষায় সবার নজর আটকে যাবে আপনার দিকেই। বাদল দিনের পোশাক নিয়ে কথা হলো ফ্যাশন হাউজ কে ক্র্যাফেটর উদ্যোক্তা খালিদ মাহমুদ খানের সাথে। তিনি বলেন, বৃষ্টি ভেজা ফুল, নানান রং ঢং-এ প্রকৃতি, সুবাসিত বাতাস সব কিছু মিলিয়ে মোহয়িত বর্ষাকাল। মোহয়িত বর্ষার এই উপচে পড়া রূপকে ফুটিয়ে তোলার কাজটি যদি করে পোশাক—অর্থাত্ পোশাকেও থাকবে বর্ষার নানান ফুল ও রূপের ছোঁয়া। বৃক্ষ থেকে গুল্ম, গুল্ম থেকে লতা। বর্ষার নানা ফুল নানান বিন্যাসে ফুটে উঠছে কে ক্র্যাফেটর বর্ষার পোশাকে। এই আয়োজনে  রয়েছে শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, কুর্তি, টপস, পাঞ্জাবি ও শার্ট। ফুল ও প্রকৃতিকে পোশাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে স্ক্রিন প্রিন্ট, ডিজিটাল প্রিন্ট, বক, মেশিন এমব্রয়ডারি  ও হাতের কাজের মাধ্যমে। এছাড়া হালকা এক্সেসরিস বা সিকুয়েন্স ব্যবহার করা  হয়েছে কোনো কোনো পোশাকে। তবে পরিশালিত কাজের এই পোশাকের কাটের উপস্থাপনায় রয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়া। এসব কালেকশন পাওয়া যাচ্ছে কে ক্র্যাফেটর সকল আউটলেট ও অনলাইন স্টোরে।  

ছবি সৌজন্যে কে ক্র্যাফট