শীতকালে ওযুর আলাদা উপকারিতা

ওযু পবিত্রতা অর্জনের অন্যতম একটি মাধ্যম। ইসলামের বিধান অনুসারে দেহের নির্দিষ্ট অঙ্গ প্রতঙ্গ ধৌত করার মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জনকে ওযু বলে। ওযু দ্বারা নির্দিষ্ট অঙ্গ পরিষ্কার হয়। তাই শরীরে রোগজীবাণু প্রবেশ করতে পারে না। শেষ বিচারের দিন ওযুকারীর ওযুর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো ঝলমল করতে থাকবে। বর্তমানে চলছে শীতকাল। ফলে বিশেষ করে ফজর, মাগরিব ও এশার নামাজের জন্য ওযু করতে আমাদের কষ্ট হয়। কখনো কখনো অলসতায় যথাসময়ে জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় করা সম্ভব হয় না বা নামাজ কাজা হয়ে যায়। শীতের দিন ঠান্ডা পানির ভয়ে সুস্থ শরীর নিয়েও কেউবা তায়াম্মুম করে নিচ্ছেন। অথবা পানি দিয়ে আমরা এমন দ্রুতগতিতে ওযু করছি যাতে দেখা যাচ্ছে- সব অঙ্গে ঠিকমত পানি পৌঁছেনি। আছরের একবারের ওযু দ্বারা এশা পর্যন্ত নামাজ আদায়ের চেষ্টা করছি। অথচ শীতকালে সম্ভব হলে প্রতি ওয়াক্তে ওযু করার আলাদা ফজিলত রয়েছে। এসময় সঠিকভাবে ওযু করলে ওযুকারীর প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট হন। একটি হাদিসে রয়েছে, রাসুল আকরাম (স) বলেন, ‘আমি কি তোমাদের জানাব না কিসে তোমাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করবে? সাহাবীরা বললেন অবশ্যই জানাবেন। উত্তরে  আল্লাহর নবী হজরত মুহাম্মদ (স) বললেন, তাহলো- শীতে কষ্ট সত্বেও ঠিকভাবে ওযু করা।’ (সহিহ মুসলিম: ২৫১)

শীতের ঋতুতে প্রয়োজনে ঠান্ডা পানি একটু গরম করে নিতে হবে। কিন্তু কোনো অবস্থাতে ওযুর ভয়ে নামাজ ছেড়ে দেওয়া যাবে না। শীতে কষ্ট করে যারা ওযু করেন তারা খুবই সৌভাগ্যবান। কেননা রাসুল (স) বলেন, ‘তিনটি আমল মানুষের পাপকে মোচন করে। ১. সংকটকালীন দান ২. গ্রীষ্মকালের রোজা ও ৩. শীতের সময়ের ওযু।’ (আদ দোয়া লিত তাবরানি-১৪১৪)। নামাজের জন্য ওযু করা ফরজ আর পবিত্র থাকার জন্য ওযু করা সুন্নাত। যিনি পবিত্র থাকেন আল্লাহ তার উপর রহমত নাজিল করেন। তার উপর সন্তুষ্ট হন। আমাদের উচিত অলসতা ত্যাগ করে সর্বদা পবিত্র থাকার চেষ্টা করা। পবিত্রতা অর্জনকারীকে আল্লাহ পছন্দও করেন। ইরশাদ হচ্ছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালবাসেন।’ (সূরা বাক্বারা:২২২)।

লেখক: শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়