‘আমাদের ভবিষৎ স্বপ্ন অর্জনে তরুণরাই হচ্ছে মূল যোদ্ধা’

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিশেষ ওয়েবিনারের ৮ম পর্বে বক্তারা তরুণদের ভবিষ্যত বাংলাদেশ নির্মাণের মূল যোদ্ধা হিসেবে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। দলের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রচারিত এই লাইভ অনুষ্ঠানে তারা বলেন, 'আমাদের ভবিষৎ স্বপ্ন অর্জনে তরুণরাই হচ্ছে মূল যোদ্ধা'।

 

করোনাকাল ও পরবর্তী বাংলাদেশ নিয়ে আওয়ামী লীগের বিশেষ ওয়েবিনার ‘বিয়ন্ড দ্য প্যানডেমিক'-এর ৮ম পর্ব অনুষ্ঠিত হয় গতকাল মঙ্গলবার। এবারের বিষয় ছিলো তরুণদের শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধি: আগামীর কৌশল নির্ধারণ। 

 

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার শাহ আলী ফরহাদের সঞ্চালনায় এতে আলোচক হিসেবে ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দিপু মনি, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ জাহিদ আহসান রাসেল, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুনাজ আহমেদ নূর, গুরুকুল অনলাইন লার্নিং প্ল্যাটফর্ম-এর প্রতিষ্ঠাতা সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর।

 

আলোচনার শুরুতে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি বলেন, গত ১৭ মার্চ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার পর ২৯ মার্চ থেকে সংসদ টেলিভিশনের মাধ্যমে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিকের ক্লাশ চালু করেছি। যেখানে সাধারন শিক্ষা, মাদ্রাসা শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা সমান তালে চলছে। এছাড়াও অনলাইনে মাধ্যমিক বিদ্যালয় গুলো তাদের শিক্ষাথীদের ক্লাশ নিচ্ছেন। আমরা দেশব্যাপী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জরিপ করে দেখেছি ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রায় ৯২ শতাংশ শিক্ষাথীদের কাছে পৌছাতে পারছি। বাকি শিক্ষাথীদের জন্য যাদের কাছে অনলাইনে পৌছাতে পারছি না তদের কাছে পৌছাতে ৩৩৩৬ নাম্বারে মোবাইল ফোন কলের মাধ্যমে শিক্ষকদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে পড়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছি, কমিউনিটি রেডিও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে এছাড়া প্রত্যন্ত অঞ্চলে আর কিভাবে পৌছানো যায় সেব্যাপারে পদক্ষেপ নিয়েছি। আশা করছি আগামি নভম্বরের মধ্যে বার্ষিক সেলেবাস গুলো মোটামুটি শেষ করে নিতে পারবো। অনুকুল পরিবেশ শুরু হলে এইচএসসিসহ সকল পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। 

 

তিনি আরও বলেন, আমাদের ইশতেহারে আমরা সবসময় তরুণদেরকে গুরুত্ব দিয়েছি। জননেত্রী শেখ হাসিনা এই তরুনদের কে যুক্ত করেছেন আমাদের স্বপ্নের সঙ্গে, জাতীয় স্বপ্নের সঙ্গে, এই জাতীয় স্বপ্ন অর্জনের পথে তরুনরাই আমাদের ভবিষৎ, তরুনরাই হচ্ছে মূল যোদ্ধা। তরুনদেরকে দক্ষ করে গড়ে তোলা ও দক্ষতার শিক্ষার উপরও জোড় দেন তিনি।

 

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ হাসান রাসেল বলেন, করোনার প্রভাবে সারাবিশ্বের মত আমাদের যুব সম্প্রদায় যারা বিভিন্ন কর্মস্থানে আছেন তারা অনেকেই আংশিক বা পুরোপুরি বেকার হয়ে যাবে, এই হঠাৎ বেকার হয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে যারা গ্রামে চলে গেছেন বা যাবেন ভাবছেন তাদের সেখানেই আত্মকর্মসংস্থান স্মৃষ্টির জন্য এবং তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষন দেয়া এবং তাদের জন্য লোনের ব্যবস্থা করে দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছি। 

 

তিনি বলেন, আগে লোনের ক্ষেত্রে যে ইন্টারেস্ট দিতে হতো আমরা সেটা অর্ধেকে নামিয়ে নিয়ে এসেছি। এই মুজিব বর্ষে কেউ যাতে বেকার না থেকে সেই উপলক্ষে কর্মসংস্থান ব্যাংকের সাথে চুক্তি করে “বঙ্গবন্ধু যুব ঋন” নামে একটি প্রকল্প চালুর ব্যবস্থা করেছি- যেখানে নিম্নে ২০ হাজার টাকা থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনা জামানতে ঋন সুবিধা দেয়া হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা সারাদেশে বেকার হয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই আর সে হিসেবে তাদের প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করবো। আমাদের টার্গেট রয়েছে আগামি ৩ বছরের মধ্যে ১২ লক্ষ দক্ষ যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।  

 

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ডিজিটাল যুগের সুফল হিসেবে আমরা এখন অনলাইনে আনুষ্ঠানিকতার বাইরে গিয়ে হাত তালির চিন্তা বাদ দিয়ে আলোচনা করতে পারছি, এতে আমাদের মনজগতের একটা পরিবর্তন এসেছে। তথ্য প্রযুক্তি অবকাঠামো এখন আগের থেকে অনেক শক্তিশালি, ডিজিটাল বাংলাদেশের যে স্বপ্ন আমাদের দেখিয়েছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও তার সন্তান জনাব সজীব ওয়াজেদ জয়, সেটা আজ বাস্তবতা। আমরা এখন ঘরে বসে থেকেই মন্ত্রনালয়ের কাজ করছি, অনলাইনে শিক্ষকরা ক্লাশ নিচ্ছেন, জরুরি মিটিং করছি। 

 

তিনি বলেন, পৃথিবীর কোন সংবিধানে বিদ্যুৎ মৌলিক অধিকার বলে উল্লেখ নাই, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সংবিধানে বিদ্যুতকে অন্যতম মৌলিক অধিকার হিসেবে সন্নিবেশিত করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় জননেত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশে বিদ্যুৎ পৌছানোর ব্যবস্থা করেছেন, যার ফলে তথ্য প্রযুক্তিতে আমরা এগিয়ে যেতে পেরেছি।

 

দৈনিক জনকন্ঠের সিনিয়র রিপোর্টার বিভাষ বাড়ৈ বলেন, আমি মনে করি শিক্ষা মন্ত্রনালয় এখনো সঠিক অবস্থানে আছে। সবার কাছে এখন নিরাপত্তা আগে। ছাত্র ছাত্রীদের জন্য মন্ত্রনালয় এখন সঠিক অবস্থানে আছে এবং সঠিক পদক্ষেপ নিচ্ছে। হয়তো বাজে সিচুয়েশন বাড়লে স্বাভাবিক ভাবে পরীক্ষা ক্লাস নিতে পারবে না। দীর্ঘ হলে বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হবে। আওয়ামী লীগের সরকারের আমলে শিক্ষা ব্যবস্থা বেশি স্থিতিশীল রয়েছে। আমরা খুব তাড়াতাড়ি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলতে পারছি না, যদি মহামারী দীর্ঘ হয় সে ক্ষেত্রে আলোচনা সাপেক্ষে মন্ত্রনালয় ভাল সিদ্ধান্ত নিতে পারে। 

 

সংসদ টিভির ব্যাপারে আরেকটু পদক্ষেপ নিলে একেবারে রুট লেভেলের  ছাত্র ছাত্রীরা যাতে এই টিভি দেখতে পারে সেক্ষেত্রে ক্যাবল অপারেটরদের সাথে কথা বললে মনে হয় খুব উপকৃত হবে। 

 

বিগত সরকারের আমলে ২০০৭-২০০৮ এর পূর্বে কারিগরি শিক্ষার প্রতি তেমন আগ্রহ ছিল না। গত দশ বছরে এই হার বেশি। আওয়ামী লীগের আমলের কারিগরি শিক্ষায় জোর দিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থায় আরও পরিবর্তন এসেছে। করোনা পরিস্থিতে কিভাবে অনলাইন ভিত্তিক ক্লাস এবং জেনারেল পিপল দিকে চিন্তা করে এই কার্যক্রমন চালু করা উচিত। 

 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি উপাচার্য অধ্যাপক ডঃ মুনাজ আহমেদ নূর, আমাদের শিক্ষা মন্ত্রী যেভাবে কাজ করছেন তা অবশ্যই প্রশংসার দাবীদার। আমরা দেখতে পেলাম অনলাইন শিক্ষার যে কয়টি পদ্ধিতি আছে, প্রত্যেকটি পদ্ধতিতে  সরকার ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে পৌঁছানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছে। নিশ্চয়ই এটি ভাল উদ্যোগ। অনলাইন ক্লাস এর ক্ষেত্রে শতভাগ পার্টিসিপেন্ট বা ক্লাস পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের সবার কাছে মোবাইল আছে,  ক্লাস শুরুর পূর্বে প্রত্যোক শিক্ষার্থীদের ফোনে যদি মেসেজ বা ভয়েস মেসেজ দেওয়া যায় তাইলে ছাত্রছাত্রীদের এংগেইজমেন্ট আরও বেশি পাওয়া যাবে বলে আমি মনে করি। যেমন আজকে তোমাদের ক্লাস, এসাইনমেন্ট। এতে করে শিক্ষার্থীরা আগে  থেকে প্রস্তুত থাকলো। 

 

অনলাইন প্যাডাগজি এবং ফেস টু ফেস পেডাগজি কিন্তু এক নয়। আমরা দক্ষতা বাড়ানোর জন্য কাজ করছি। বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা অনলাইন ক্লাশ নিচ্ছি। অনলাইন শিক্ষা চলছে, এটি থাকবে। 

 

২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশের কথা চিন্তা করে, ২১ বছরের মধ্যেই আমাদের সকল ছাত্রছাত্রীদের মাঠে ছেড়ে দিতে হবে। এর জন্য লেগো কনসেপট নিয়ে কাজ করতে হবে। মার্কেটের সাথে আর ডিমাণ্ডের সাথে মিল রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা নিতে হবে। 

 

আরেকটি বিষয় হচ্ছে ক্লাস কনটেন্ট তৈরির ব্যপারে। এক্সপার্ট বেইজ কন্টেন্ট, ক্লাউড বেইজ কনটেন্ট এবং এর চেয়ে ভাল হয় কোলাবোরটিং  বেইজ কনটেইন্ট নিয়ে কাজ করা যায় অনলাইন শিক্ষার ব্যাপারে। ন্যাড়ো ব্যান্ড ইউজ করে, অথবা ছোট ডিভাইসে এফ এম রেডিওর মাধ্যমে ঘরে ঘরে কন্টেন্ট পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। 

 

গুরুকুল অনলাইন লার্নিং প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠাতা সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর বলেন, এই সময়ে একে বারে অপ্রস্তুতভাবে আমাদের সরকার যা করেছে তা খুবই প্রসংশার দাবীদার। প্রতিটি স্কুল বা কলেজকে আলাদা ভাবে অনলাইনে ক্লাস নিতে হবে। তারাই ছাত্রছাত্রীদের কনটেন্ট ডেলিভারি দিবে। আমাদের শিক্ষকদের জন্য আদর্শ শিক্ষা উপকরণ দিলে ভাল হবে। আদর্শ ক্লাসরুম হলে ক্লাস নিতেও সুবিধা। আমাদের অনলাইনে এই শিক্ষা উপকরণ গুলো সরবরাহ করতে হবে, আমাদের একলক্ষ ক্লাস সারাদেশে কিভাবে নেওয়া যায় সেভাবে চিন্তা করতে হবে নীতি নির্ধারকদের। এখন উপযোগী নীতিমালা তৈরি করে কিভাবে এই অনলাইন ক্লাস নেওয়া যায় সেভাবে কাজ করতে হবে সবার। 

 

ইত্তেফাক/এএম