বিদ্যাপতির প্রতি

এ সখী হামারি দুঃখক নাহি ওর

এ ভরা  ভাদর, মাহ ভাদর

শূন্য মন্দির মোর।

—বিদ্যাপতি

 

তোমার শূন্য মন্দির জুড়ে সজল ভৈরবী

থোক থোক মেঘের ওপারে বিষণ্ন আকাশ—

অবিরল জলের প্রপাত, অসীমের মৌন সংগীত।

দূরপরবাসিনী, হায় মরুভূ হাহাকার!

আর ওই যে বৃষ্টিস্নাত সবুজ বৃক্ষ;

দেখ, এ ভরা ভাদর, শূন্যতার দেয়ালে আটকে

থাকে বিদ্যাপতির তৃষিত হূদয়।

 

বিশ্বাস কর, আমার কিছুই আটকে থাকে না,

পিঙ্গল পাতার হলুদ বৃষ্টি দেখেছি সেই নাগাসাকি থেকে

আমাজান বন থেকে সুন্দরবন জুড়ে বৃক্ষ কর্তনের শব্দ শুনছি,

সুনামির সঙ্গে দেখা হয়েছে

লবণাক্ত জল ঢুকেছে হালদায়

ইলিশ শূন্য পদ্মার বুক।

কৃষক ফসলহীন মাঠে তাকিয়ে থাকে—

 

আমার দূরপরবাসিনী! ইমেলে জানিয়েছে—

‘আগামী বসন্তে আমি জর্জকে বিয়ে করবো।’

কবি বিশ্বাস কর, তোমার মতোন হাহাকার নেই।

শ্রাবণ শেষ বৃষ্টিহীন বঙ্গদেশে কেবল শূন্যতা, অনন্ত ক্রন্দন।

রবিঠাকুরের জলভরানত বৃক্ষ ধূসর, রাসায়নিক সবুজ।

আর আমার মনমন্দিরে সহস্র পিঁপড়েরা

বলে, হ্যালো। নবীন কৃষ্ণ, হাউ ডু ইউ ডু।