আসমানি গ্রন্থসমূহের নিদর্শন :পাখি

পাখি একটি জাতীয় সম্পদ। কোনো দেশের আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক পরিবেশের সৌন্দর্যবর্ধনে পাখির ভূমিকা অপরিসীম। পাখির কলকাকলি মানুষের চিত্তকে আলোড়িত করে। পাখির সুমধুর ডাকেই ভোরে আমাদের ঘুম ভাঙে। কবির ভাষায় বলা যায় :ভোরের পাখি বল না আমায়/ এই সুরের মালা কে দিল তোমায়/ কার নামের করণিতে ডাকাডাকি/ ব্যাকুল করা সুরের মায়ায়।

হযরত মূসা (আ) এর ওপর নাজিলকৃত পবিত্র তাওরাত শরিফের বর্ণনা মতে, দুনিয়া সৃষ্টির পঞ্চম দিনে আল্লাহতায়ালা পাখি সৃষ্টি করেছেন। পবিত্র তাওরাত শরিফে বর্ণিত আছে, ‘তারপর ঈশ্বর বললেন, পানি বিভিন্ন প্রাণীর ঝাঁকে ভরে উঠুক। আর দুনিয়ার ওপরে আসমানের মধ্যে বিভিন্ন পাখি উড়ে বেড়াক’। এছাড়া তিনি বিভিন্ন জাতের পাখিও সৃষ্টি করলেন। তাদের প্রত্যেকের নিজের জাতি অনুসারে বংশবৃদ্ধি করার ক্ষমতা রইল। ঈশ্বর দেখলেন তা চমত্কার হয়েছে। দুনিয়ার ওপরে পাখিরাও নিজের সংখ্যা বাড়িয়ে তুলুক’। এভাবে সন্ধ্যাও গেল, সকালও গেল—আর সেটাই ছিল পঞ্চম দিন’। (পয়দাদেশ:২০-২৩) সর্বশেষ আসমানি গ্রন্থ আল কোরআনেও পাখি সম্পর্কিত একাধিক আয়াত রয়েছে। যেমন; ‘তারা কি লক্ষ্য করে না তাদের ঊর্ধ্বদেশে উড্ডীয়মান বিহঙ্গকুলের প্রতি যারা পক্ষ বিস্তার করে ও সংকুচিত করে? দয়াময় আল্লাহই তাদেরকে স্থির রাখেন’। (সুরা ৬৭: আল-মূলক:১৯) ‘তারা কি পক্ষকুলকে দেখে নাই যে, তারা বশীভূত রয়েছে আকাশের শূন্য মণ্ডলে? তাদেরকে কেউই ধরে রাখে না আল্লাহ ব্যতীত। নিশ্চয় এর মধ্যে প্রমাণসমূহ রয়েছে ঈমানদার লোকদের জন্য’। (সুরা-১৬:নাহল:৭৯) ‘ভূপৃষ্ঠে বিচরণশীল এমন জীব নেই অথবা নিজ ডানার সাহায্যে এমন কোনো পাখি উড়ে না যা তোমাদের মতো এক একটা সমাজ নয়’। (সুরা-৬: আনআম:৩৮)

সুদর্শন পাখি শুধু পরিবেশেরই শোভা বর্ধন করে না বরং আকাশের বুকে পাখির ওড়াওড়ি আমাদের চোখকেও তৃপ্তি দেয়। পাখিদের বিচিত্র কলরব, মিষ্টি মধুর গানে মানুষের চিত্ত বিমোহিত না হয়ে পারে না। বিভিন্ন রংবেরঙের পাখি আল্লাহতায়ালার সৃষ্টির অন্যতম নিদর্শন।

lলেখক :প্রভাষক, ব্যবস্থাপনা বিভাগ, টি অ্যান্ড টি কলেজ, মতিঝিল, ঢাকা