জামালপুরে যমুনা এখনও বিপদসীমার ৭৩ সেমি ওপরে, বিপাকে গৃহস্থ ও গবাদি পশু

জামালপুরে যমুনার পানি কিছুটা কমলেও এখনও বিপদসীমার ৭৩ সেন্টিমিটার ওপর দিতে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, ঝিনাইসহ অন্য শাখা নদীর পানি অপরিবর্তিত রয়েছে বলে শুক্রবার জানিয়েছেন জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পানি পরিমাপক (গেজ পাঠক) আব্দুল মান্নান। এদিকে বানভাসি মানুষ ও গো খাদ্যের চরম সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

জেলার সাতটি উপজেলার ৬৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪২টি ইউনিয়নের প্রায় চার লাখেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। নলকূপ তলিয়ে বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন এলাকার কাঁচা-পাকা সড়ক তলিয়ে গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ এলাকায় যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এখন নৌকা। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, জেলায় বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে জেলার প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমির পাট, আউশ, বাদাম ও সবজিসহ বিভিন্ন ফসল। 

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ভোগ মোকাবেলায় বানভাসি মানুষের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ শুরু করা হয়েছে।  জেলা ত্রাণ ও পূণর্বাসন কর্মকর্তা মো.নায়েব আলী জানান, সারা জেলার ৪২ টি ইউনিয়নের চার শতাধিক গ্রামের তিন লাখ আট হাজার মানুষ পানি বন্দি রয়েছে। এসব বানভাসীদের জন্য ৬০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু সাঈদ জানান, যমুনা নদীর পানি কমতে শুরু  হলেও পুরাতন  ব্রহ্মপুত্র নদের পানি এখনও বাড়ছে। ভারতে যদি বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে তাহলে  বাংলাদেশের এ অঞ্চলে বন্যা দীর্ঘস্থায়ী  হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অপরদিকে জামালপুরের মাদারগঞ্জে পাট কাটতে গিয়ে বন্যার পানিতে ডুবে কমল মিয়া (৫০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে মাদারগঞ্জ উপজেলার জোড়খালী ইউনিয়নের বেড়াবেতাগা গ্রামের এঘটনা ঘটে। কমল মিয়া ওই এলাকার দেলোয়ারের ছেলে।

এলাকাবাসী জানায়, আজ শুক্রবার সকালে বাড়ির কাছে জমির ফসলে কমর পানিতে পাট কাটতে যান কৃষক কমল মিয়া। এসময় বন্যার পানির স্রোতে ডুবে যায় সে। এক পর্যায়ে সকাল ১১ টার দিকে পাট খেতের কিনারায় তার মরদেহ ভেসে উঠে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, জোড়খালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফরিদুল ইসলাম ।

ইত্তেফাক/এসি