প্রায় এক মাস পর নাইকো দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। হাজিরা শেষে সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসার জবাবে তিনি বলেছেন, এই মুহূর্তে কিছু বলার নেই।
এর আগে বেলা পৌনে ১২টার দিকে হুইল চেয়ারে করে তাকে আদালত কক্ষে আনা হয়। শুরুতে পুরাতন ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত বিশেষ আদালতের পরিবেশ নিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বিচারকের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, আদালত কক্ষ ছোট। এত ছোট জায়গায় মামলা চলতে পারে না। আমাদের আইনজীবীদের বসার পর্যাপ্ত জায়গা নেই। কিন্তু এত পুলিশ কেন? এমনকি আমার অনেক আইনজীবীকে গেটে আটকে দেয়া হয়। তিনি বলেন, এমন পরিবেশে মামলা চললে আমি আর আদালতে আসব না। সাজা দেওয়ার জন্যই আনছেন। সাজা দিয়েছেন। সাজা দেবেন। আমি এ আদালতে আসব না। এ পর্যায়ে বিচারক বলেন, আমি নতুন এসেছি। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা করা হবে। এরপরই নাইকো মামলার অভিযোগ গঠনের উপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আংশিক শুনানি শেষে আগামী ১৩ জানুয়ারি পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য রেখেছেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান। এছাড়া এফবিআই সদস্যদের সাক্ষ্য দেওয়ার অনুমতি চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন নথিভুক্তের আদেশ দেন।
অভিযোগ গঠনের শুনানিতে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল মামলার এহাজার ও অভিযোগপত্র থেকে আসামিদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ তুলে ধরেন। একইসঙ্গে আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের ১৩ হাজার কোটি টাকা ক্ষতির অভিযোগে দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ গঠনের আবেদন জানান।
আরো পড়ুন: সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম আর নেই
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার নাইকো চুক্তি করে। দেশের ইমেজ রক্ষা করার জন্য আমাদের সরকার ওই চুক্তির ধারাবাহিকতা রক্ষা করে। অথচ খালেদা জিয়া ও আমাকে রাজনৈতিক কারণে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। শুনানি শেষে খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলার অনুমতি চান আইনজীবীরা। আদালত ওই আবেদন খারিজ করে দেয়। পরে আদালত কক্ষে খালেদা জিয়ার সঙ্গে আইনজীবী মওদুদ আহমদ, এজে মোহাম্মদ আলী, এম মাহবুবউদ্দিন খোকন, মাসুদ আহমেদ তালুকদার প্রায় দশ মিনিট কথা বলেন।
ইত্তেফাক/আরকেজি