কা লকেই বের হলো গ্র্যাজুয়েশনের রেজাল্ট। এরপর সামনে পড়ে রয়েছে বিশাল ভবিষ্যত। কেউ-কেউ হয়তো এরপর মাস্টার্স করতে যাবে, কেউ অন্য কোনও কোর্সে ভর্তি হবে আবার কেউ কেউ চেষ্টা করবে চাকরির। তবে এর যে কোনও একটা শুরু হতেই সময় লাগবে বেশ কিছুদিন। মাঝের এই সময়টা এমনভাবে ব্যবহার করো যাতে ভালভাবে সময়ও কাটে, আবার পরবর্তীকালে সিভিতেও উল্লেখ করতে পারেন এই কাজগুলোর। এ নিয়ে রয়েছে বিস্তারিত—
রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট :ভবিষ্যতে যারা রিসার্চের দিকে যেতে চান, তারা এই সময়টাকে কাজে লাগান। প্রায় সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ই রিসার্চের বিষয়ে যথেষ্ট আগ্রহী। আপনার পছন্দের কোনও বিষয়ের রিসার্চে অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করার চেষ্টা করুন। এ ক্ষেত্রে আপনার প্রফেসাররাই সাহায্য করতে পারবেন। এই কাজে আপনি এখনই কোনও টাকা না পেলেও, অভিজ্ঞতা সঞ্চয় হবে অনেকটা। এছাড়াও বাংলাদেশে এনজিওসহ বহু গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেখানে ফিল্ডের ডাটা সংগ্রহ করার জন্য ফ্রেস গ্রাজুয়েটদের দরকার হয়। সেই ডাটা আপনার মাধ্যমে কালেক্ট করে ওই প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করে থাকে। সেখানেও অনেক সুযোগ রয়েছে।
এনজিও :অনেক এনজিও এবং সংস্থা আছে যারা নানা সমাজসেবামূলক কাজ করে। পথশিশুদের জন্য, পশুপাখিদের জন্য, বয়স্ক ও অসুস্থদের জন্য, বা গরীব মানুষের জন্য কাজ করে এমন কোনও সংস্থার স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতে পারেন এই সময়টায়। অনাথ আশ্রম বা ওল্ড এজ হোমের বাসিন্দাদের সঙ্গে কাটানো সময়টা কিন্তু অমূল্য!
ইন্টার্নশিপ করো :ইন্টার্নশিপের বিভিন্ন শর্ত থাকে। এমন কোনও ইন্টার্নশিপ খুঁজে বের করুন যেটা আপনার পড়ার সাবজেক্টের সঙ্গে তো রিলেটেড অবশ্যই, পাশাপাশি এমন সংস্থা যারা গ্র্যাজুয়েটদের ইন্টার্ন হিসেবে নেয়। তবে ইন্টার্নশিপ পেইড বা আনপেইড, দু’রকমই হতে পারে। আনপেইড হলেও এই অভিজ্ঞতা আপনার পরে কাজে লাগবেই। এই ইন্টার্নশিপগুলো সাধারণত ৪ মাস ব্যাপী হয়। তথ্যপ্রযুক্তিতে আইসিটি ডিভিশনেও পেইড ইন্টার্নশিপ করিয়ে থাকে। এই বিষয়ে যোগাযোগ করতে পারেন।
নিজের প্যাশনে ইনভেস্ট করুন :খুব ভাল ছবি আঁকতে পারেন, দারুণ গানের গলা বা জিম এক্সপার্ট? একজন ভাল ট্রেনার রেখে অথবা শর্ট টার্ম কোর্স করে এই বিষয়ে একটা সার্টিফিকেট তৈরি করে রাখুন। এই সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে আপনি নিজেই বাড়িতে বসেই গান, আঁকা, নাচ বা জিমের শেখানোর ক্লাস শুরু করতে পারেন।
পার্ট টাইম জব করুন :এখনই ৯টা-৫টা চাকরি করতে চাইছেন না আবার বাড়িতে বেকার বসে থাকতেও ভাল লাগছে না? খোঁজ করতে পারেন পার্ট-টাইম জবের। লেখাপড়ার বিষয় ছাড়াও আপনার অন্যান্য পছন্দের বিষয়ের কাজ হলে করতেও ভাল লাগবে। কাজ ছাড়া বাকি সময়টা অন্য পড়াশোনাও চালিয়ে যেতে পারবেন।
টিউশন পড়ান :আজকাল সমস্ত পরিবারে বাবা-মা দু’জনেই চাকরি করায় বাচ্চাদের একদম ছোট বয়স থেকেই গৃহশিক্ষক রাখা হয়। নিজের বাড়ির আশপাশে খোঁজ করে দেখলেই এমন কাউকে পেয়ে যাবে। টিউশন পড়ানোর জন্য স্টুডেন্ট ও টিচারদের যোগাযোগ করিয়ে দেয় এমন অনেক সংস্থাও আছে। বেশি সময়ও খরচ হবে না আবার টাকাও রোজগার হবে।