‘রেলগাড়ি ঝমাঝম, পা পিছলে আলুর দম’

 

‘রেলগাড়ি ঝমাঝম, পা পিছলে আলুর দম।’ রেলগাড়ি নিয়ে ছোটবেলায় এই ছড়াটি আমরা অনেকেই পড়েছি। এখনো রেলগাড়ি দেখলেই শিশু-কিশোররা আপনা-আপনি বলে ওঠে ছড়াটি। তবে যে রেলইঞ্জিনকে ঘিরে ছড়াটি লেখা সেই রেলইঞ্জিন দিয়ে এখন আর ট্রেন চলে না। দেশে রেলগাড়ি থাকলেও এখন আর নেই তার অতীত ঐতিহ্য। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে বদলে গেছে রেলগাড়ি ও রেলইঞ্জিন। এখন বাংলাদেশ রেলওয়েতে সংযোজন করা হয়েছে অত্যাধুনিক কমিউটার ও ডেমু ট্রেন।

সেই ১৮৬২ সালের কথা। প্রথম রেলগাড়ি চলেছিল এ দেশে। দিনটি ছিল ১৫ নভেম্বর। পশ্চিমবঙ্গের রানাঘাট রেলওয়ে জংশন থেকে তত্কালীন পূর্ব বাংলার কুষ্টিয়ার জগতি স্টেশনে এসে দাঁড়িয়েছিল একটি ট্রেন। সেই ট্রেনটি টেনে এনেছিল একটি বাষ্পীয় ইঞ্জিন (লোকোমোটিভ)।

রেলওয়ের সূত্র জানায়, ১৮৭০ সালে দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা গড়ে ওঠে। এই সৈয়দপুরেই রয়েছে রেলওয়ের অনেক প্রাচীন নিদর্শন। কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়কের (ডিএস) সামনে রয়েছে একটি প্রদর্শনী ইয়ার্ড। সেখানে রয়েছে একটি ন্যারোগেজ বাষ্পীয় ইঞ্জিন, একটি ব্রডগেজ ইঞ্জিন ও একটি প্রাচীন ডিজেল ইঞ্জিন। এর আগে এই ইয়ার্ডে একটি মিটারগেজ বাষ্পীয় ইঞ্জিন নিয়ে গিয়ে ঢাকার রেল ভবনের সামনে স্থাপন করা হয়।

সূত্রটি জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশে দু-ধরনের রেলপথ রয়েছে। ব্রডগেজ ও মিটারগেজ। তবে কোনো রেলপথে আর বাষ্পীয় ইঞ্জিন দেখা যায় না। সেই স্থলে জায়গা করে নিয়েছে ডিজেল চালিত ইঞ্জিন। ন্যারোগেজ এখন ইতিহাস। ১৯৬৩ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ন্যারোগেজ অর্থাত্ মাইক্রো লাইনের ট্রয় রেল চলতো খুলনা-রূপসা ইস্ট থেকে বাগেরহাট পর্যন্ত। পরে রেলপথটি বিলুপ্ত হয়ে যায়।

বাংলাদেশের কোনো অঞ্চলেই ন্যারোগেজ রেলপথ নেই। এসব বলেছেন, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্বাবধায়ক (ডিএস) মুহাম্মদ কুদরত-ই খুদা। তিনি বলেন, ‘সৈয়দপুর রেল কারখানায় প্রবেশপথে যে ন্যারোগেজ ইঞ্জিনটি শোভা পাচ্ছে তা এক সময় সচল ছিল। এটি তৈরি করা হয় ১৯৩৬ সালে। বিজ্ঞানী জেমস ওয়াটের বাষ্পীয় ইঞ্জিন আবিষ্কারের অনেক পরে। ইঞ্জিনটি নির্মাণ করে ইংল্যান্ডের ডাব্লুজি বাগলান লিমিটেড নামের একটি কারখানা। ১০ ফুট ৬ ইঞ্চির উচ্চতা আর ১৯ ফুট দীর্ঘ ইঞ্জিনটির ওজন ১১ দশমিক ৭৬ টন। ঐতিহ্যের এই ইঞ্জিনটি দেখতে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় অনেক দেশি-বিদেশি পর্যটক ভিড় জমান।’

সৈয়দপুর রেল কারখানার প্রধান ফটকের সামনে দাঁড়ালেই চোখে পড়ে ন্যারোগেজ স্টিম ইঞ্জিনটি। আর তাই অনেক উত্সুক পথচারি ওই পথ দিয়ে চলতে গিয়ে কৌতুহল নিয়ে বারবার ফিরে তাকান নীরবে দাঁড়িয়ে থাকা ন্যারোগেজ স্টিম ইঞ্জিনটির দিকে।