যশোরের মণিরামপুরে দিন-দুপুরে রফিকুল ইসলাম ওরফে রফি (৫৩) নামের এক হত্যা মামলার আসামিকে গুলি করে ও গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলার দিগঙ্গা কুচলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পূর্বপাশে এ হত্যাকাণ্ড ঘটনা ঘটে।
রফিকুল উপজেলার মধুপুর গ্রামের মৃত আমারত বিশ্বাসের ছেলে। তিনি উপজেলার হরিদাসকাটি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান প্রকাশ কুমার সাহা হত্যা মামলার আসামি ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত রফি এক সময় নিষিদ্ধঘোষিত পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির আঞ্চলিক কমান্ডার ছিলেন। পরে তিনি নিষিদ্ধ দল ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরেন। মৃত্যুর আগে তিনি ইজিবাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি সুন্দলি বাজারে যাত্রী নামিয়ে দিয়ে মণিরামপুরের দিকে ফিরে আসছিলেন। পথে দিগঙ্গা-কুচলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশে ফাঁকা স্থানে পৌঁছালে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যার পর লাশ ও ইজিবাইক ফেলে রেখে চলে যায়।
কুচলিয়া এলাকার ইউপি সদস্য প্রণব কুমার বিশ্বাস জানান, গুলির শব্দ শুনে মাঠে থাকা লোকজন এগিয়ে এসে রফিকের লাশ ও ইজিবাইকটি পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। নিহতের ডান বুকে ও ডান বাহুতে দুটি গুলির চিহ্ন এবং গলায় ধারালো অস্ত্রের কোপের দাগ রয়েছে। খবর পেয়ে মণিরামপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করেছে। মরদেহের পাশে পড়ে থাকা রফিকের ইজিবাইকটিও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মণিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শিকদার মতিয়ার রহমান জানান, কারা প্রকাশ্যে রফিককে গুলি করে ও গলা কেটে হত্যা করেছে তা এখনও জানা যায়নি। নিহত রফিকের নামে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশ লাশ ও ইজিবাইকটি উদ্ধার করেছে। কারা এবং কেন এ হত্যাকা- ঘটালো পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে।
ইত্তেফাক/এসি