তালায় স্বাস্থ্যকর্মী, পল্লীচিকিৎসক, দুইনারীসহ ৭ জনের শরীরে নতুন করে করোনা ভাইরাস পাওয়া গেছে। শুক্রবার বিকালে তালা স্বাস্থ্য বিভাগ ও থানা প্রশাসন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আক্রান্ত ব্যক্তিরা হলেন- উপজেলার চরকানাইদিয়া গ্রামের মৃত আহম্মাদ আলী গাজীর ছেলে পল্লীচিকিৎসক মোঃ আজিজুর রহমান (৫৬), খলিলনগর ইউনিয়নের গঙ্গারামপুর গ্রামের বিপ্র দেবনাথের স্ত্রী আভা রানী দেবনাথ (৫৭), তালা সদর ইউনিয়নের জাতপুর গ্রামের মৃত ইসমাইল হোসেন শেখের ছেলে এসকে আজিজুর রহমান (৫৩), একই গ্রামের জব্বার বিশ্বাসের ছেলে জিয়ারুল ইসলাম (২৯), তালা হাসপাতালের আরেক স্বাস্থ্যকর্মী রফিকুল ইসলামের স্ত্রী মমতাজ খাতুন (তার গ্রামের বাড়ি খুলনার পাইকগাছা উপজেলার বিরাশি গ্রামে হলেও তালা সদরের আয়ুব আলীর বাড়িতে ভাড়া থাকেন তিনি) ধানদিয়া ইউনিয়নের পাঁচপাড়া গ্রামের মোঃ লিয়াকত কারিকরের ছেলে স্বাস্থ্যকর্মী মোঃ খায়রুল ইসলাম শিমুল (৩২) ও সেনেরগাতী গ্রামের আব্দুর রশিদ (৪৯)। এ সময় তালা ও পাটকেলঘাটা থানা পুলিশের কুইক রেসপন্স টিম উক্ত বাড়িতে উপস্থিত হয়ে ঐ বাড়িগুলোসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করে।
তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ ফারাহ ফেরদৌস বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ পর্যন্ত উপজেলায় ৯ নারীসহ মোট ৪৫ জন করোনা পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে দুইনারীসহ ৭ জন ইতিমধ্যে সুস্থ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
তালা থানার ওসি মেহেদী রাসেল জানান, করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাড়িসহ আশেপাশের বেশ কয়েকটি বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এ সময় এলাকাবাসীকে আতঙ্কিত না হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার এবং সাতক্ষীরা জেলা পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়।
এদিকে সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের ডাঃ জয়ন্ত সরকার জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সাতক্ষীরায় নতুন করে ৩১ জনরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় শুক্রবার পর্যন্ত মোট ৩২৬জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।
তিনি আরও জানান, সাতক্ষীরা জেলা থেকে শুক্রবার পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৬৭৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়। ইতিমধ্যে ১ হাজার ৮৪৯ জনের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট সিভিল সার্জন কার্যালয়ে এসে পৌঁছেছে। এছাড়া সাতক্ষীরায় করোনার উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত মোট ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে ৫টি রিপোর্ট পজিটিভ, ৩ জনের রেজাল্ট এখনও আসেনি এবং বাকী সব রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে বলে এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান।
ইত্তেফাক/আরকেজি