উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অবিরাম বৃষ্টিতে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের ৬টি ওয়ার্ডের ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
এদিকে তিস্তার চরাঞ্চলের পরিবারগুলোও পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুল কাদের সাংবাদিকদের জানান, হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে রবিবার তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ১৫ সে. মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
রবিবার উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের সলেডি স্পার-২, গোবরধন, চন্ডিমারী, দক্ষিণ বালাপাড়া, আরাজি ছালাপাক গ্রামগুলো ঘুরে দেখাগেছে, এসব পরিবারগুলোর বাড়ীতে প্রায় ২-৩ ফুট পানি উঠেছে। পানির কারণে অনেকেই ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। আবার অনেকেই বাড়ীঘর ছেড়ে উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন। বিশেষ করে এসব পরিবার গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে রয়েছেন। আবার অনেকেই আগেই বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। বিশেষ করে বন্যাকবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও নতুন করে এসব পরিবারের মাঝে কোন ত্রাণ সহায়তা ও শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়নি।
মহিষখোচা ইউনিয়নের বাহাদুর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা আফজাল হোসেন জানান, গত দুদিন যাবত গবাদিপশু নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বাড়ীতে খাবারও নেই, বাড়ী থেকে বেরও হতে পারছেন না। একপ্রকার তিনি অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। তিস্তার চরাঞ্চলের বাসিন্দা কৃষক জমির উদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, কয়েকটি পরিবার মূল ভূ-খণ্ডে আশ্রয় নিলেও এখনও অনেকেই পানিবন্দি অবস্থায় আছেন।
এদিকে তিস্তার ভাঙ্গন থেকে রক্ষার জন্য এলাকাবাসীর সহায়তায় একটি বালুর বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। বাঁধটি রক্ষার জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের উদ্যাগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। বাঁধটি রক্ষার জন্য এলাকাবাসী নির্ঘুন রাত কাটাচ্ছেন।
মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরী বলেন, ইউনিয়নের ৯৫টি বাড়িসহ ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন বলেন, পানির আদিতমারী উপজেলায় ৯৫টি বাড়ি নদী ভাঙনের শিকার হয়েছে। এছাড়া ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়েছে বলে জানান তিনি। আদিতমারীর ইউএনও মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে পানিবন্দি পরিবারগুলোর সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে।
ইত্তেফাক/আরকেজি