হামরা রিলিফ চাই না স্যার,তোমরা হামার বাধ বান্দি দেও . . .

'হামরা রিলিফ চাই না স্যার,তোমরা হামার বাধ বান্দি দেও . . .'- খুব কষ্ট করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে কথা গুলো বলছিল তিস্তা পাড়ে বন্যায় তলিয়ে থাকা লোকজন। গত শুক্রবার রাত থেকে তিস্তার পানি বাড়তে থাকে। পানি বৃদ্ধিও সাথে সাথে উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী গ্রাম গুলো তলিয়ে যায়।

গত শুক্রবার রাতে উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের বিনবিনা এলাকায় তিস্তা নদী সংলগ্ন একটি রাস্তা ভেঙ্গে যাওয়ায় নতুন করে প্লাবিত হয়ে পরে এক হাজার পরিবার। পানিবন্দি লোকজনের সার্বিক পরিস্থিতি দেখার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাসলীমা বেগম বাগেরহাট আবাসন কেন্দ্রে যান। সেখানে উপস্থিত হলে স্থানীয় লোকজন তাকে ঘিরে ধরে।

এ সময় উপজেলা  নির্বাহী কর্মকর্তা আবাসন কেন্দ্রের পানিবন্দি লোকজনকে বলেন, আপনাদের জন্য কি দিলে ভাল হয়। এ সময় নারী-পুরুষ সবাই সমস্বরে বলেন, 'হামরা রিলিফ চাই না স্যার তোমরা হামার বাধ বান্দি দেও।'

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের অনেক দিনের প্রাণের দাবি একটি বাঁধের। গত দুই বছরে শংকরদহ, বাগেরহাট, চর ইচলি, জয়রামওঝা এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শংকরদহ আশ্রয়ণ কেন্দ্র গত বছর বিলীন হয়েছে। শংকরদহ ৬০ টি ঘরের মধ্যে আর মাত্র  ২০টি ঘর গেলে শংকরদহ  গুচ্ছগ্রামটি বিলীন হবে তিস্তায়। বিলীন হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ অনেক স্থাপনা। দিন যায় বছর যায় বাঁধ আর হয় না। সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ শুধু আশার বানী শোনাচ্ছে। প্রকল্প পাঠানো হয়েছে পাশ হলে কাজ করা হবে।

ইত্তেফাক/আরএ