যাত্রা শুরু করল ডিজিটাল হাট

মোজাহেদুল ইসলাম ঢেউ

 

গত ১১ জুলাই ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এর উদ্যোগে কুরবানি পশু বিক্রির অনলাইন প্লাটফর্ম  ‘ডিজিটাল হাট’ (www.digitalhaat.net) উদ্ভোধন করা হয়েছে। করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, আইসিটি ডিভিশন, ই-কমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ ডেইরী ফার্ম এসোসিয়েশন যৌথভাবে এই ডিজিটাল হাট বাস্তবায়ন করছে। ক্রেতারা চাইলে ডিজিটাল হাট থেকে ন্যায্যমূল্যে ক্রয়কৃত কুরবানি পশু ঢাকার ৫টি এলাকা থেকে মাংস প্রক্রিয়াকরণ করে নিজ নিজ ঠিকানায় ডেলিভারী নিতে পারবে। উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন  স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন  ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী  মো. তাজুল ইসলাম। এতে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এর মেয়র আতিকুল ইসলাম। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ই-ক্যাবের প্রেসিডেন্ট শমী কায়সার। 

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, ‘ডিজিটাল কুরবানি হাটের এই উদ্যোগ শত সমস্যার মাঝেও আমাদের আশান্বিত করেছে। অনলাইনে কুরবানি গরু বিক্রি এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনার মধ্যে মাংস প্রক্রিয়া করে বাসায় পৌঁছে দেয়ার এই কর্মযজ্ঞ একদিকে কোভিডের ঝুঁকি থেকে আমাদের রক্ষা করবে অন্যদিকে নগরীর পরিবেশকে সুন্দর রাখবে এবং চামড়া ব্যবস্থাপনা হবে আধুনিক ও মানসম্মত। পুরো ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আমাদের ব্যবহারিক জীবনে তথ্যপ্রযুক্তির প্রয়োগের ক্ষেত্রে আমরা একধাপ এগিয়ে যাব।’

বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ.ম. রেজাউল করিম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, বিভাগীয় কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান, এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট  শেখ ফজলে ফাহিম ও বাংলাদেশ ডেইরী ফার্ম এসোসিয়েশন-এর প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ইমরান হোসেন। মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ.ম. রেজাউল করিম বলেন, ‘কোভিডের কারণে গরুর বাজারে মানুষের আসা যাওয়ায় কিছুটা ঝুঁকি থেকে যায়। আবার প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষক ও খামারীদের গরু ন্যায্যমূল্যে বিক্রি হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। মূলত এই চিন্তা থেকে আমরা এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। অনলাইন পেমেন্ট-এর মাধ্যমে ক্রেতা ও বিক্রেতার স্বার্থ রক্ষা করে একটি আস্থার জায়গা তৈরি করবে এই ডিজিটাল হাট।’ তিনি সকলকে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে কোরবানির আহবান জানান এবং তার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, ‘আজকের তরুণরা যা পছন্দ করবে তার উপর নির্ভর করবে ভবিষ্যতে মানুষের জীবনযাত্রা। তরুণদের পছন্দের কারণেই ই-কমার্স খাতে ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হচ্ছে। বর্তমানে আমাদের প্রয়োজনের সাথে ই-কমার্স এমনভাবে জড়িয়ে গেছে তাতে ই-কমার্স হয়ে উঠেছে ব্যবসা বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু। কোরবানির হাটও আজ তার বাইরে নেই।’

এফবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, ‘কুরবানি আমাদের ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের একটা বিষয়। ত্যাগ বিশ্বাস পবিত্রতা ও স্বচ্চতা বিধান করলে এটা সাধারণ মানুষের কাছে আরো গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এবং শহরের পরিচ্ছন্নতা বিধানে এই ডিজিটাল হাট একটা ব্যাপক ভূমিকার রাখবে।

সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা উত্তর সিটি মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত কয়েক দিনের কয়েকটি টিমের নিরবিচ্ছিন্ন পরিশ্রমের ফসল আজকের এই ডিজিটাল হাট। ঢাকা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত গরু হাটগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এবং শহরের পাশঘেঁষে কয়েকটা মাত্র হাটে গরু বিক্রি করা হবে।’ তিনি নগরবাসীকে গরু হাটে যতটা সম্ভব কম যাওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ডিজিটাল হাটের আওতায় গরু বিক্রি ছাড়াও প্রায় ২ হাজার গরু জবাই করে এবং মাংস প্রক্রিয়া করে বাসায় পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা রেখেছি। মূলত ঈদের দিন ৪০০, দ্বিতীয় দিন ১০০০ এবং তৃতীয়দিন ৬০০ গরু প্রস্তুত করার সক্ষমতা রয়েছে।’ ই-ক্যাবের প্রেসিডেন্ট শমী কায়সার বলেন, ‘মাননীয় মেয়রের ডাকে সাড়া দিয়ে আমরা আইসিটি ডিভিশন ও বাংলাদেশ ডেইরী ফার্ম এসোসিয়েশনের সাথে মিলে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করছি। ক্রেতাদের আস্থা এবং বিক্রেতাদের নিভর্রতা তৈরি করতে বিক্রয়, মূল্যপরিশোধ, মাংস প্রক্রিয়াকরণ এবং ডেলিভারী কাজ একটি সুপরিকল্পিত প্রক্রিয়ায় ও সার্বিক তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। এতে ক্রেতাদের চাহিদাকে গুরুত্ব দেয়া হবে এবং বিক্রেতাদের পশুর বিক্রয়মূল্য পাওয়া নিশ্চিত করা হবে।