গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তাসহ সবকটি নদ-নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় কুড়িগ্রামের বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। এতে দ্বিতীয়দফা বন্যার কবলে কুড়িগ্রাম জেলার ৯টি উপজেলার ৫৬টি ইউনিয়নের ৫ শতাধিক গ্রামের প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যায় ধরলার পানি বিপদসীমার ৯৬ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার ও তিস্তার পানি ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
ধরলা ও দুধকমর অববাহিকার কুড়িগ্রাম সদর, নাগেশ্বরী, ভূরুঙ্গামারী, ফুলবাড়ী উপজেলার অভ্যন্তরীণ অধিকাংশ কাঁচা-পাকা সড়কগুলো তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছে মানুষজন।
এদিকে ধরলা নদীর পানির প্রবল চাপে সদর উপজেলার সারডোবে একটি বিকল্প বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে ২০টি গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। সকালে বাঁধটি ভেঙ্গে প্রবলবেগে পানির তোড়ে ৫টি বাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে মালামাল ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। তীব্র স্রোতের মুখে বাঁধটি ভেঙ্গে হলোখানা, ভাঙামোড়, কাশিপুর, বড়ভিটা ও নেওয়াশি ইউনিয়নের ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ঘর-বাড়ীতে পানি উঠতে শুরু করায় হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে গবাদিপশু নিয়ে দুর্ভোগে পড়েছে।
কুড়িগ্রাম সদরের হলোখানার স্থানীয় ইউপি সদস্য মোক্তার হোসেন জানান, প্রবল স্রোতের কারণে মানুষজনকে সরিয়ে নিতে নৌকা পাওয়া যাচ্ছেনা। বাঁধের এই রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ফুলবাড়ী উপজেলা সদর ও কুড়িগ্রাম জেলা সদরে যাতায়াত করতো। যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ময়নুল ইসলাম জানান, পানিবন্দী মানুষকে উদ্ধারের জন্য সেখানে দু’টি নৌকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম জানান, বাঁধটি অনেক আগেই পরিত্যক্ত হয়েছে। তবে বিকল্প বাঁধটি রক্ষার জন্য বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছিল। কিন্তু পানির প্রবল চাপে শেষ পর্যন্ত বাঁধটি ভেঙে যায়।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল করিম জানান, পানিবন্দী মানুষকে উদ্ধারে প্রয়োজনীয় নৌকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া জেলায় ৪৩৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ৪০০ মে. টন চাল, ১১ লাখ টাকা ও ৩ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার উপজেলা পর্যায়ে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
ইত্তেফাক/এমআর