অন্ধকার কাটিবে কবে?

বিশ্বের সবচাইতে শক্তিশালী রাষ্ট্রের উপর দিয়া করোনার সুনামি বহিয়া গেলেও দেশটির প্রেসিডেন্ট মনে করেন, করোনা লইয়া এত দুশ্চিন্তার কিছু নাই। তিনি দেশটির সকল কিছু খুলিয়া দেওয়ার পক্ষে। এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিও তিনি খুলিয়া দিতে চাহেন। করোনা হইতে নিজেকে নিরাপদ রাখিতে মাস্কের কথা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বারংবার বলিলেও তিনি কখনো মাস্ক পরেন নাই। তিনি তো বরং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকেই অন্য একটি দেশের হইয়া কাজ করা সংস্থা বলিয়া মনে করেন। তবে তাত্পর্যপূর্ণ ঘটনা হইল, গত পরশু তাহাকে মাস্ক পরিতে দেখা গিয়াছে। বলা যায়, দীর্ঘদিন ধরিয়া নানা টালবাহানার পরে অবশেষে তিনি প্রকাশ্যে মাস্ক পরিলেন। তিনি অবশ্য বলিয়াছেন যে, তিনি কোনো দিনই মাস্কের বিরোধিতা করেন নাই। তবে তিনি বিশ্বাস করেন—জায়গা ও সময় বুঝিয়াই মাস্ক পরা উচিত।

করোনার কারণে আমরা বিশ্বের অনেক গুরুত্বপূর্ণ মানুষকে হারাইয়াছি। ইতিমধ্যে সমগ্র বিশ্বে করোনায় মৃত্যুসংখ্যা পৌনে ৬ লক্ষের কাছাকাছি। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বাংলাদেশেও মারা গিয়াছেন অনেক বিশিষ্ট মানুষ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সম্প্রতি করোনা ভাইরাস লইয়া দুইটি তাত্পর্যপূর্ণ পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করিয়াছে। তাহার একটি হইল, করোনার বিস্তারের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাইয়াছে। অপরটি হইল, ভাইরাসটির মারণক্ষমতা হ্রাস পাইয়াছে। অন্তত সর্বশেষ মিউটেশন ঘটা ভাইরাস হইতে এমনটা প্রতিপন্ন হইতেছে। তবে ভবিষ্যতে মিউটেশনের মাধ্যমেই ইহার মারণক্ষমতা যে বৃদ্ধি পাইবে না, তাহার কোনো নিশ্চয়তা নাই। বিশ্বের বড় বড় বিজ্ঞানী স্বীকার করিয়াছেন যে, এই ভাইরাসটির সমগ্র রহস্য এখনো তাহাদের নিকট অধরা। একই কথা ইহার প্রতিষেধকের ক্ষেত্রেও। আমেরিকা, ইংল্যান্ড, জার্মানি, চীনসহ বিশ্বের অসংখ্য দেশ আলাদা আলাদাভাবে বলিতেছে—করোনার ভ্যাকসিন সফলপ্রায়। সম্প্রতি রাশিয়ার সেচেনভ বিশ্ববিদ্যালয় দাবি করিয়াছে, করোনা প্রতিষেধকের হিউম্যান ট্রায়াল তাহারা চালাইয়াছে এবং সফল হইয়াছে। তবে আমরা ইতিপূর্বে দেখিয়াছি, ভ্যাকসিন না আসিলেও রেমডেসিভিরসহ বিবিধ ঔষধ লইয়া উচ্ছ্বাস প্রকাশ করা হইয়াছে; কিন্তু কোনোটাই এখন অবধি পুরাপুরি সফল বলিয়া প্রমাণিত হয় নাই। তাই রাশিয়ার দাবিও অনেকের নিকট রাখাল বালকের গল্পের মতো মনে হইতে পারে। এই দিকে, ভ্যাকসিন আবিষ্কারের এই যাবত্কালের ইতিহাস যাহা বলিতেছে তাহাতে নিদেনপক্ষে ২০২১ সালের আগে করোনার টিকা গণমানুষের নিকট আসিবার কোনো সুযোগ নাই। আবার আমেরিকার ম্যাসাচুয়েটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলোজি (এমআইটি) ইতিপূর্বে বলিয়াছে যে, যদি টিকা না বাহির হয়, তাহা হইলে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারির দিকে বিশ্বে সবচাইতে অধিক করোনার ঝড় বহিবে ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আমেরিকার উপর দিয়া।

অনেক পূর্বাভাসই মিলিতেছে না, অনেক গবেষণাই মিথ্যা প্রমাণ করিতেছে করোনা ভাইরাস। তাই আমরা এখনো স্পষ্ট করিয়া বলিতে পারি না—এমনটি হইবেই। তবে করোনা হইতে নিজেকে সুরক্ষায় মাস্ক পরা এবং ব্যক্তিগত সচেতনতার বিকল্প নাই। অন্ধকার কাটিবার স্পষ্ট লক্ষণ নাই। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করিতেছেন, এই মুহূর্তে স্বাস্থ্যবিধিগুলি যথাযথভাবে মানিয়া না চলিলে সামনের অন্ধকার শীঘ্রই কাটিবে না।