করোনায় মারা গেলেন যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুল

দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুল আর নেই। করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিত্সাধীন অবস্থায় গতকাল সোমবার বিকাল ৪টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি...রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, তিন মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। আজ মঙ্গলবার বাদ জোহর যমুনা ফিউচার পার্ক             মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

দৈনিক যুগান্তর ও যমুনা টেলিভিশন যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান। ১৯৭৪ সালে নুরুল ইসলাম বাবুল যমুনা গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন। একে একে গড়ে তোলেন ৪১টি প্রতিষ্ঠান। এশিয়ার অন্যতম বড় শপিংমল যমুনা ফিউচার পার্ক, নির্মাণাধীন মেরিয়টস হোটেলসহ শিল্প ও সেবা খাতে বিনিয়োগ করে গ্রুপটি। সর্বশেষ করোনার চিকিত্সায় কুড়িলে ৩০০ ফুটের কাছে আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন নুরুল ইসলাম বাবুল। বস্ত্র, রাসায়নিক, চামড়া, মোটরসাইকেল, ইলেকট্রনিকস, বেভারেজ ও টয়লেট্রিজ উত্পাদন করছে যমুনা গ্রুপ।

যমুনা গ্রুপের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ১৪ জুন নুরুল ইসলাম বাবুলকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তার চিকিত্সায় এভারকেয়ারের ডা. ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মাহবুবের নেতৃত্বে ১০ সদস্যবিশিষ্ট মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়। এর বাইরে চীনের চার জন বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক এবং সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের দুই জন বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে পরামর্শ দিয়েছেন।

মরহুম নুরুল ইসলাম বাবুলের স্ত্রী  এবং সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সালমা ইসলাম বর্তমান সংসদের সদস্য। ছেলে শামীম ইসলাম যমুনা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিন মেয়ে সোনিয়া ইসলাম, মনিকা ইসলাম ও রোজালিন ইসলাম যমুনা গ্রুপের পরিচালক।

শোক

নুরুল ইসলাম বাবুলের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়ে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন অনেকে। পৃথক শোকবার্তায় তারা বাবুলের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। শোক জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া, চিফ হুইপ নুর-ই-আলম চৌধুরী, সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদের, জাপার সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।

শোক জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের নেতা ও ১৪ দলের সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র আতিকুল ইসলাম প্রমুখ।

নুরুল ইসলামের মৃত্যুতে আরো শোক প্রকাশ করেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারার সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আক্তার, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী প্রমুখ।

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিল্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন এবং রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন শোক জানিয়েছেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন শোক জানান।