বহুল আলোচিত রিজেন্ট হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী ও রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। গতকাল সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাঈনুল ইসলাম এই আদেশ দেন। এদিকে সাহেদের বিরুদ্ধে তদন্তে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন।
রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) সাহেদকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সাইফুল্লাহ মাসুদ নামের একজন ব্যবসায়ী তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে দু’টি মামলা করেন। আদালত মামলা দু’টি আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। তাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলে জানা গেছে।
মাঠে দুদক
সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বিভিন্ন ব্যক্তি, গণমাধ্যম, ভার্চুয়াল মাধ্যমসহ বিভিন্ন উেস তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগসমূহ যাচাই-বাছাই করে কমিশন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে কমিশনের বিশেষ তদন্ত অনুবিভাগের মাধ্যমে অভিযোগ অনুসন্ধান করা হবে বলে জানিয়েছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পরিচালক) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য। কমিশন এরই মধ্যে উপপরিচালক মো. আবু বকর সিদ্দিকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল গঠন করেছে। এ দলের অন্য সদস্যরা হলেন মো. নেয়ামুল হাসান গাজী ও শেখ মো. গোলাম মাওলা।
কমিশন সাহেদের বিরুদ্ধে মাইক্রোক্রেডিট ও এমএলএম ব্যবসার নামে জনসাধারণের সঙ্গে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ, বহুমাত্রিক জাল-জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে পরস্পর যোগসাজশে সরকারি অর্থ আত্মসাত্, আয়কর ফাঁকি, ভুয়া নাম ও পরিচয়ে ব্যাংক ঋণ গ্রহণ করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাত্পূর্বক অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পেয়েছে। সেসব অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে গতকাল কমিশনের নিয়মিত বৈঠকে উপস্থাপন করলে কমিশন এ সিদ্ধান্ত নেয়। গত ৬ জুলাই র্যাব রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান চালায়। এর পরই গণমাধ্যমে প্রকাশ পায় রিজেন্ট হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী সাহেদের বিরুদ্ধে করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা না করে ভুয়া রিপোর্ট দেওয়া, সরকারের কাছে বিল দেওয়ার পর আবার রোগীর কাছ থেকেও অর্থ নেওয়াসহ নানা অনিয়মের খবর প্রকাশ পায়। র্যাব রিজেন্টের দুটি হাসপাতাল বন্ধ করে দেয় এবং হাসপাতালের ৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেফতার করে। এ ব্যাপারে র্যাবের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত প্রতারণার হোতা মো. সাহেদকে গ্রেফতার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
চট্টগ্রামে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলা
চট্টগ্রাম অফিস জানায়, রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট কেসিএস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমের নামে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে চট্টগ্রামে মামলা দায়ের করেছেন এক ব্যবসায়ী। গতকাল সোমবার ডবলমুরিং থানায় মামলাটি দায়ের করেন মো. সাইফুদ্দিন নামের এক ব্যক্তি। তিনি গাড়ির টায়ার ও যন্ত্রাংশ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স মেগা মোটরসের মালিক জিয়া উদ্দিন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের পক্ষে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় শহীদুল্লাহ নামে আরো একজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে মেগা মোটরসের মালিক জিয়া উদ্দিন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে ৯১ লাখ ২৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।