টাকা ফেরত পেতে নারীকে দিয়ে ফোন করিয়ে এনে খুন করা হয় সাইফুলকে

ভাটারায় আলোচিত ব্যবসায়ী হত্যাকাণ্ডে তিন জন গ্রেফতার

ঘটনার ১৮ দিন পর রাজধানীর ভাটারায় আলোচিত ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে গ্রেফতার হয়েছে তরুণীসহ তিন জন। তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে শ্বাসরুদ্ধকর বর্ণনা দিয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—আপেল আহমেদ (২৭), তার স্ত্রী মোছা. শান্তা ইসলাম ওরফে আলভী (২০) ও আব্দুর রাকিব চৌধুরী (২২)। ডিবি পুলিশের গুলশান বিভাগের জোনাল টিম রবিবার বিকালে তাদেরকে ভাটারা এলাকার বাঁশতলা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। এ সময় তাদের দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহূত চাকু জব্দ করা হয়।

রাকিব চৌধুরী গতকাল হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। আপেল ও আলভীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ডে নিয়েছে ডিবি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান জোনের ডিসি মশিউর রহমান।

তিনি বলেন, আপেলের নির্দিষ্ট কোনো পেশা নেই। সে ফুটপাতে কখনো ভ্যানে করে কাপড় বিক্রি করে, কখনো ভাসমান রেস্টুরেন্ট, কখনো ফলমূল বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করত। করোনার ভাইরাসের কারণে আয়ের পথ বন্ধ হলে সে আর্থিক সংকটে পড়ে। এ অবস্থায় তার বন্ধু রাফির কাছে আর্থিক সহায়তা চায় আপেল। তখন রাফি আপেলকে জানায়, সাইফুল ইসলামের কাছে সে বেশ কিছু টাকা পাবে। কিন্তু টাকাটা সে দিচ্ছে না। এ অবস্থায় রাফি আপেলকে প্রস্তাব দেয়, যদি তুমি (আপেল) তোমার স্ত্রীকে দিয়ে সাইফুলকে বাসায় ডেকে আনতে পার তাহলে টাকাটা আদায় করা যাবে। আর টাকা আদায় হলে তুমিও লাভবান হবে। রাফির প্রস্তাবে রাজি হয় আপেল। এরপর সে তার স্ত্রী শান্তা ইসলামকে দিয়ে ফোনে অসামাজিক কার্যক্রমের প্রলোভন দেখায়। সাইফুলও শান্তার কথায় বিশ্বাস করে। পরে শান্তার কথামতো ভাটারার সাঈদ নগরে সাইফুল চলে আসে। কিন্তু বাসায় আসার পরই তারা তাকে আটকে রাখে। তারা সাইফুল ইসলামকে বিবস্ত্র করে চাকুর উলটা দিক দিয়ে মারধর করে এবং টাকা চাইতে থাকে। এর আগে আপেল স্থানীয় নোমান ও হাসানকে ডেকে আনে। পাশাপাশি আপেল এর ফুফাতো ভাই রাকিবকেও ডেকে আনে ঘটনাস্থলে। একপর্যায়ে নোমান ও হাসান চলে যায়। সাইফুল ইসলাম পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় রাকিব প্রথমে তাকে টেনে ধরে এবং আপেল উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। এ সময় শান্তা সাইফুলের মুখ চেপে ধরে এবং মুখে ওড়না গুঁজে দেয়। পরে সাইফুলের গলা কাটে। সাইফুল স্বাস্থ্যবান ও লম্বা হওয়ায় তার লাশ গুম করতে না পেরে খাটের নিচে লুকিয়ে রেখে বাসায় তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায়।

অভিযান পরিচালনাকারী অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) গোলাম সাকলায়েন বলেন, এক কন্যা সন্তানের জনক সাইফুল ইসলাম হাজারীবাগে শ্বশুর বাড়িতে থাকতেন। গত ২৪ জুন বাসা থেকে গাড়ি নিয়ে বের হবার পর আর বাসায় ফেরেননি। এ অবস্থায় সাইফুলের স্ত্রী মিনারা পারভীন হাজারীবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়ারি করেন। ২৬ জুন ভাটারা থানা পুলিশ পরিত্যক্ত অবস্থায় ভাটারা থানার মাদানী এভিনিউস্থ ১০০ ফিট থেকে সাইফুল ইসলামের গাড়িটি উদ্ধার করে। ২৭ জুন ভাটারা এলাকার সাঈদ নগর পূর্বপাড়া মসজিদ গলির জনৈক আনোয়ার হোসেনের বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে সাইফুল ইসলামের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ।