ময়ূর-২ লঞ্চের মাস্টার বাশার গ্রেফতার

বুড়িগঙ্গা নদীতে লঞ্চডুবির ঘটনায় অভিযুক্ত ময়ূর-২ লঞ্চের মাস্টার আবুল বাসারকে (৫৭) গ্রেফতার করেছে র্যাব। ঘটনার পর থেকে তিনি বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন। গত রবিবার রাতে কেরানীগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

র্যাব-১০-এর কমান্ডিং অফিসার (অধিনায়ক) অতিরিক্ত ডিআইজি কাইয়ুমুজ্জামান খান জানান, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকা থেকে রবিবার রাতে বাসারকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি মাগুরার মোহম্মদপুর থানার মণ্ডলগাতির কলাগাছি গ্রামের মৃত সিরাজুল হক মোল্লার ছেলে। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।

কাইয়ুমুজ্জামান খান বলেন, ঘটনার পর আবুল বাসার আত্মগোপনে চলে যান। তিনি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় স্থান পরিবর্তন করে আত্মগোপনে ছিলেন। সর্বশেষ ফরিদপুরের রোয়ালমারী থানার আখালিপাড়ায় তার ভায়রার বাড়িতে গিয়ে অবস্থান করেন। পরে ঘটনাটি সেখানে জানাজানি হয়ে গেলে বাশার সেখান থেকে ঢাকায় আত্মগোপন করার উদ্দেশ্যে আসছিলেন। তখন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব সদস্যরা তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। আবুল বাসারকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হবে।

গত বৃহস্পতিবার ময়ূর-২ লঞ্চের মালিক মোসাদ্দেককে রাজধানীর সোবহানবাগ এলাকা থেকে গ্রেফতার করে নৌ পুলিশ। তার আগে গ্রেফতার হয় ময়ূর-২ লঞ্চের সুপারভাইজার আবদুস সালাম।

গত ২৯ জুন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন ফরাশগঞ্জ ঘাট সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীতে ময়ূর-২ লঞ্চের ধাক্কায় মর্নিং বার্ড নামের লঞ্চটি ডুবে যায়। এ ঘটনায় শিশু, নারীসহ মোট ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ৩০ জুন লঞ্চডুবির ঘটনায় নৌপুলিশ বাদী হয়ে সাত জনের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করে। মামলায় ময়ূর-২ লঞ্চের মালিক, মাস্টার, স্টাফসহ অজ্ঞাত আরো পাঁচ থেকে সাত জনকে আসামি করা হয়। বাসার এই মামলার ২ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি।