তৃতীয় আন্তর্জাতিক মূকাভিনয় উত্সব ’১৯-এর ডিক্লেয়ারেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

ঢাকা ইউনিভার্সিটি মাইম অ্যাকশন আয়োজনে গতকাল বুধবার পাবলিক লাইব্রেরির শওকত উসমান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো ৩য় আন্তর্জাতিক মূকাভিনয় উত্সব-২০১৯-এর ডিক্লেয়ারেশন প্রোগ্রাম। সামগ্রিক সহযোগিতায় ছিল ওয়াজডা নিউজিল্যান্ড। প্রতি বছরই এপ্রিলে তিনদিনব্যাপী আন্তর্জাতিক মূকাভিনয় উত্সব আয়োজন করে থাকে সংগঠনটি। এ বছর দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক মূকাভিনয় উত্সবে জার্মানি, আমেরিকা, জাপান, ভারত ও বাংলাদেশের ১৯ দল প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছিল। আগামী উত্সবেও গত আয়োজনের চেয়ে বেশি সংখ্যক দেশ এবং মাইম দল অংশ নিবে বলে আশা করছে সংগঠনটি। তৃতীয় আন্তর্জাতিক মূকাভিনয় উত্সবের ডিক্লেয়ারেশন প্রোগ্রামে কাল সন্ধ্যায় বাছাইকৃত ১০টি স্কেচ মাইম প্রদর্শিত হয়েছে। এই প্রদর্শনীটি সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। মাইম অ্যাকশনের জনপ্রিয় প্রযোজনা অস্বীকৃতি, ঘোর, সেলফিম্যানিয়া, সুবোধ পালাবে না আর, জীবন :যেখানে যেমন, রিমোট, রিমান্ড, লাইট ভার্সেস ডার্কনেস প্রভৃতি প্রদর্শিত হবে এই ডিক্লেয়ারেশন প্রোগ্রামে। সংসদ সদস্য, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ এই আয়োজনের পৃষ্ঠপোষকরা অনুষ্ঠানে উপিস্থিত থাকবেন। উল্লেখ্য, প্রতিবছর এপ্রিলে অনুষ্ঠিত তিনদিনব্যাপী আন্তর্জাতিক উত্সবে প্রতিদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে থাকে উত্সবের মূল আয়োজন। এ ছাড়া শহীদ মিনার, কার্জন হল, কলাভবন, শাহবাগসহ পুরো ক্যাম্পাসজুড়েই থাকে পথ শো।

 বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে উত্সবের আমেজে দৃষ্টিনন্দনভাবে সাজানো উত্সব কারের মাধ্যমে থাকে দশদিন ধরে রোড শো। তিন দিনের আয়োজনে থাকে মূকাভিনয়ের উপর কর্মশালা, সেমিনার, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে মূকাভিনয় প্রতিযোগিতা এবং পোস্টার প্রদর্শনী। ২০১১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ‘না বলা কথাগুলো না বলেই হোক বলা’ স্লোগান নিয়ে যাত্রা শুরু করে মূকাভিনয় সংগঠন ‘ঢাকা ইউনিভার্সিটি মাইম অ্যাকশন’। পথচলার মাত্র সাত বছরে সংগঠনটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মূকাভিনয় উত্সব আয়োজনসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, বিভাগ ও জেলা শহরে ৪৫০টির মতো মূকাভিনয় প্রদর্শনী করেছে। একই সঙ্গে পুরস্কৃত হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এবং সুনামও কুড়িয়েছে বেশ। ইতোমধ্যে আর্মেনিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারতে মূকাভিনয় প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছে দলটি।