এইচএসসি পরীক্ষার ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা

মো: কবির হোসেন (সুজন)

প্রভাষক, ব্যবস্থাপনা বিভাগ

নিকুঞ্জ মডেল কলেজ, খিলক্ষেত, ঢাকা।

 

করোনা মহামারি শেষ হলে যেকোনো সময় তোমাদের পরীক্ষা হয়ে যাবে, তাই মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনায় যুক্ত থাকো সবসময়।

 

উদ্দীপক ঃ  গোটা বিশ্ব আজ কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। এই করোনা ভাইরাস সংক্রামন রোধে মাক্স পরিধান করা, বিশ সেকেন্ড সময় নিয়ে  ঘন ঘন হাত ধোঁয়া এবং গণসমাবেশ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়া হয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে। এই পরামর্শ ও সচেতনতার  উপলব্ধি থেকে সাধারণ মানুষও আজ  বোঝতে পেরেছে কোনটা করা উচিত এবং কোনটা করা উচিত নয়। এটা এক ধরণের মূল্যবোধ। তবে এই বিষয়ে সরকারও ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। ইতিমধ্যে অঞ্চল বেধে বিভিন্ন জায়গা ভিন্ন ভিন্ন লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।  আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা গুলোর মাধ্যমে সর্বাত্নক চেষ্টা চালানো হচ্ছে। 

ক) অংশীদারি চুক্তিপত্র কী?

খ) নাবালক কীভাবে অংশীদারী কারবারের অংশীদার হতে পারে?

গ) উপরের উদ্দীপকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ থেকে সচেতনতা সৃষ্টি কোন ব্যবসায় পরিবেশের অন্তর্গত? আলোচনা কর।

ঘ) উদ্দীপকে দুটি ব্যবসায় পরিবেশের গুরুত্ব মূল্যায়ন করে তোমার মতামত দাও।

উদ্দীপকের ক নং প্রশ্নের উত্তর : অংশীদারি কারবারে অংশীদারদের মধ্যকার চুক্তির বিষয়বস্তু যে দলিলে লিপিবদ্ধ থাকে তাকে অংশীদারি চুক্তিপত্র বলা হয়।

উদ্দীপকের খ নং প্রশ্নের উত্তর : অংশীদারি আইন অনুযায়ী আংশীদারি কারবারে কোন নাবালক অংশীদার হতে পারে না, তবে সকল অংশীদার সম্মত হলে কিছু সময়ের জন্য নাবালক অংশীদারি কারবারের অংশীদার হতে পারে।

সকল অংশীদারের সম্মতিতে কোন নাবালককে অংশীদার করা হলে সে সীমিত অংশীদার হিসেবে গণ্য হবে। এক্ষেত্রে তার অধিকার ও কর্তব্যের সীমাবদ্ধতা থাকবে। সীমিত অংশীদার চুক্তিতে নির্দিষ্ট হারে মুনাফা পাওয়ার অধিকারী। এই সময়ে নাবালক অংশীদার ব্যবসায়ে রক্ষিত মূলধন ও মুনাফা পর্যন্ত তার দায় বহন করবে। নাবালক অংশীদার সাবালক হবার পর তার মতামতের ভিত্তির সে প্রতিষ্ঠান পূর্ণ অংশীদার হিসেবে গণ্য হবে।

উদ্দীপকের গ নং প্রশ্নের উত্তর : উপরের উদ্দীপকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ থেকে সচেতনতা সৃষ্টি  ব্যবসায়ের সামাজিক পরিবেশের অন্তর্গত।

কোন সমাজের বা গোষ্ঠীর বা জাতির মানুষের সংখ্যা তাদের ধমর্,বিশ্বাস,চিন্তাধারা,মূল্যবোধ,শিক্ষা-সংস্কৃতি, রীতি-নীতি, দেশীয় ঐতিহ্য ও সুনাম ইত্যাদি মিলিয়ে যে পারিপার্শ্বিকতা গড়ে উঠে তাকে সামাজিক পরিবেশ বলে।

উপরের উদ্দীপকে করোনা ভাইরাস সংক্রামণ রোধে মাক্স পরিধান করা, বিশ সেকেন্ড সময় নিয়ে  ঘন ঘন হাত ধোঁয়া এবং গণসমাবেশ এড়িয়ে চলা বাংলাদেশ সহ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই পরামর্শে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে এবং এই  উপলব্ধি থেকে সাধারণ মানুষও আজ উচিত- অনুচিত অর্থাত্ ভালো-মন্দ বোঝতে পেরেছে।  এই ভালো-মন্দ  বোঝার উপলব্ধি হলো মূল্যবোধ। এই মূল্যবোধ সমাজ থেকেই সৃষ্টি হয় এবং এটি সমাজকে পরিশুদ্ধ করে তোলে বলে এটি সামাজিক মূল্যবোধ।

উদ্দীপকের ঘ নং প্রশ্নের উত্তর : উদ্দীপকে অপর ব্যবসায় পরিবেশটি রাজনৈতিক পরিবেশের অন্তর্গত।

কোন দেশের সরকার,সার্বর্ভৌমত্ব,রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, রাজনৈতিক দল, নেতৃত্ব ও তাদের চিন্তা-ভাবনা, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ইত্যাদি মিলিয়ে যে পারিপার্শ্বিকতার জন্ম দেয় তাকে রাজনৈতিক পারিবেশ বলে।

উদ্দীপকে  বৈশ্বিক মহামারিতে সংক্রমণ রোধে সরকার ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। গোটা দেশ লকডাউনের পরবর্তীতে ইতিমধ্যে অঞ্চল বেধে বিভিন্ন জায়গা ভিন্নভিন্ন ভাবে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।  আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সর্বাত্নক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যেহেতু সরকার, রাজনৈতিক দল, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং বৈশ্বিক মহামারী অর্থাত্ সারা বিশ্বব্যাপী মহামারি তাই এখানে ব্যবসায়িক পরিবেশের দৃষ্টিকোণ হতে রাজনৈতিক পরিবেশের গুরুত্ব ফুটে উঠেছে।

উক্ত উদ্দীপকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায় পরিবেশ তুলে ধরা হয়েছে। একটি সামাজিক অন্যটি রাজনৈতিক। তবে রাজনৈতিক পরিবেশের প্রভাব সমাজকে প্রভাবিত করে। কারণ,রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে দেশের শিক্ষা-সংস্কৃতি, সুনাম, ঐতিহ্য, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ সুদৃঢ হয়। তাই গুরুত্বের দিক হতে সামাজিক পরিবেশ এবং রাজনৈতিক পরিবেশ একটি আরেকটির পরিপূরক।