গাইবান্ধা জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। জেলার সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, তিস্তা, ঘাঘট, করতোয়া, আলাই ও বাঙালি নদীর তীরবর্তী ২৬টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এসব ইউনিয়নের ৩০ হাজার ৮৭৬ পরিবারের এক লাখ ২২ হাজার ৩২০ জন মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
এদিকে বন্যাকবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য, শিশু খাদ্য, গোখাদ্য ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার চরম সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যাকবলিত এসব মানুষকে কষ্ট পেতে হচ্ছে। অনেকে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। তবে পর্যাপ্ত ত্রাণের অভাব রয়েছে।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্রের পানি ৩৬ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ১০৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর ঘাঘট নদীর পানি ৩৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার ওপরে চলে গেছে। অন্যদিকে করতোয়ার পানি ১৮ সেন্টিমিটার বেড়েছে আর তিস্তার পানি ২৫ সেন্টিমিটার কমেছে। করতোয়া ও তিস্তা বিপদসীমার নিচে রয়েছে।
বিকেলে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান মুঠোফোনে জানান, অবিরাম বর্ষণ ও উজানের ঢলে জেলার প্রতিটি নদ-নদীর পানি বেড়েছে। যেভাবে পানি বাড়ছে, তাতে বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।
তিনি আরও জানান, গত বছরের বন্যার মতো এবারও ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ভাঙনের শিকার হচ্ছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ কে এম ইদ্রিশ আলী জানান, বন্যাকবলিত চার উপজেলার জন্য ৩২০ মেট্রিক টন চাল, ১৫ লাখ টাকা, চার লাখ টাকার শিশুখাদ্য, দুই লাখ টাকার গোখাদ্য ও তিন হাজার ৬০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।
ইত্তেফাক/ইউবি