জামালপুরে যমুনা ব্রহ্মপুত্রের করাল গ্রাস, পানি বিপদসীমার ১১২ সেমি ওপরে

কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জামালপুর জেলায় দ্বিতীয় দফা বন্যা দেখা দিয়েছে। যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বেড়ে  জেলার সাত উপজেলায় বন্যার পরিস্থিতি চরম অবনতি হয়েছে। মঙ্গলবার বিকাল ৩টা নাগাদ ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি ৬১ সেন্টিমিটার বেড়ে বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে  বিপদ সীমার ১১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েেেছনবাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পউবো) জামালপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু সাঈদ এবং পানি মাপক গেজ পাঠক আব্দুল মান্নান। 

এদিকে জেলার দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর, মাদারগঞ্জ, মেলান্দহ, বকসিগঞ্জ, জামালপুর সদর ও সরিষাবাড়ি এই সাত উপজেলার ৬৮টি ইউনিয়নের মধ্যে প্রায় ৪০টি ইউনিয়নের বিস্তৃর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষ পানি বন্দি পড়েছে। বন্যা কবলিত এলাকার মানুষ উচু বাঁধেসহ অনেকেই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশ্রয় কেন্দ্র আশ্রয় নিয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যের চরম সঙ্কট দেখা দিয়েছে। 

গত সোমবার (১৩ জুলাই) রাত ৯টায় ইসলামপুর উপজেলার চিনাডুলী ইউনিয়নে যমুনার শাখা নদী ডেবরাইপ্যাচ ব্রিজে প্রবল স্রোতের ধাক্কায় একটি বরযাত্রীবাহী নৌকা ডুবে একজন নিহত এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন। 

বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন জামালপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোখলেছুর রহমান ও জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা নায়েব আলী। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলতি বন্যায় জামালপুরে ৩১০ মেট্রিক টন জিআর  চাল, নগদ ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া ত্রাণের এ পর্যন্ত ২১০ মেট্রিক টন চালসহ নগদ ১০ লাখ টাকাসহ দুই হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার সাতটি উপজেলায় বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে অবশিষ্ট একশ মেট্রিক টন জিআর চালসহ ঈদ উপলক্ষে তিন হাজার ৪০৮ মেট্রিন টন ভিজিএফ চাল বুধবার থেকে বিতরণ করা হবে।

ইত্তেফাক/এসি