এ বছর বৃক্ষমেলা নেই তাই মানুষ ছুটছে নার্সারিতে

সৈয়দ আবদুল ওয়াজেদ, চট্টগ্রাম অফিস

করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে জনস্বাস্থ্যবিধির কড়াকড়ি। তাই চট্টগ্রামে এ বছর হচ্ছে না নিয়মিত বাত্সরিক বৃক্ষমেলা। তাই বলে কিন্তু বৃক্ষপ্রেমীরা থেমে নেই, তারা ছুটছেন মহানগরী ও জেলার সরকারি-বেসরকারি নার্সারিগুলোতে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামসুদ্দোহা বলেন, করোনা সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি মানার কড়াকড়ি থাকায় এ বছর আউটার স্টেডিয়ামে বৃক্ষমেলার আয়োজন করছে না করপোরেশন। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (দক্ষিণ) অফিসের কর্মকর্তা শেখ মঞ্জুরুল করিম পলাশ বলেন, এখনো পর্যন্ত সরকারের ঊর্ধ্বতন মহল থেকে মেলা আয়োজনের কোনো নির্দেশনা আসেনি। তবে আগামীকাল ১৬ জুলাই থেকে সারা দেশে ভার্চুয়ালি উদ্বোধন হবে জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান। প্রধানমন্ত্রী গণভবনে তিনটি গাছের চারা রোপণ করে সারা দেশে একযোগে তা উদ্বোধন করবেন। একই সময় দেশের সব উপজেলায়ও উপজেলা প্রশাসন ও বনবিভাগ দপ্তরগুলো তিনটি করে গাছের চারা রোপণ করে কর্মসূচিতে অংশ নেবে। তিনি জানান, লালদীঘির ময়দানে বনবিভাগের (উত্তর) কার্যালয়ের উদ্যোগে এবং জেলা প্রশাসন, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ, বন গবেষণা ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম, বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ এবং নার্সারিসমূহের সহযোগিতায় প্রতি বছর পক্ষকালব্যাপী বৃক্ষমেলা হয়ে আসছে। কিন্তু এ বছর করোনা পরিস্থিতিতে জনসমাগম নিষিদ্ধ থাকায় তা হতে পারছে না।

নগরীর হালিশহর ওয়াপদা রোড থেকে ব্র্যাক নার্সারির ব্যবস্থাপক সাদেকুর রহমান বলেন, ব্র্যাক নার্সারিতে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক বৃক্ষপ্রেমীর সমাগম ঘটছে। তারা অর্কিড, বনসাইসহ নানা ধরনের গাছের চারা কিনছে। বিক্রির পরিমাণও অনেক বেশি। মেলা না হলেও ক্রেতাদের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে নার্সারি চত্বরেই। চট্টগ্রাম বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নসরত বেগম বলেন, মৌসুমকে সামনে রেখেই ইনস্টিটিউট এবার ৪০ হাজার গাছের চারা উত্পাদন করেছে। ইনস্টিটিউটের নার্সারি প্রাঙ্গণেই ক্রেতারা ফলদ ও বনজ গাছের চারা কিনতে প্রতিদিন ভিড় করছেন। ইনস্টিটিউটের স্টেশন কর্মকর্তা প্রদীপ কান্তি দাশ বলেন, মেলা না হলেও জনসাধারণ চারা কিনতে ইনস্টিটিউটেই চলে আসছে। এসব চারার সরকারি মূল্য পাঁচ টাকা।